ডেস্কঃনিউজ
নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী খোদ্দরায়ণপুর গ্রামে অবস্থিত হযরত শাহ সূফী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার শরিফ। যুগ যুগ ধরে এই মাজার শরিফটি এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের কাছে এক পরম ভক্তি, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমান ২০২৬ সালেও মাজারটির প্রতি মানুষের সেই চিরন্তন ভক্তি ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
মাজারটির সঠিক ইতিহাস ও প্রাচীনত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান,এই মাজারটি ঠিক কত সালের বা কত বছরের পুরোনো, তা আমার বাপ-দাদারাও বলতে পারেননি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই মাজারের অলৌকিকত্ব ও সুফি সাধকের মহত্ত্বের কথা মানুষের মুখে মুখে চলে আসছে। আব্দুর রাজ্জাক সাহেব আরও জানান,মাজারের ভেতরের পবিত্র কবরটি ১১ হাত দীর্ঘ। এই দীর্ঘ কবরটি মাজারের আধ্যাত্মিক আবহকে আরও রহস্যময় ও পবিত্র করে তুলেছে, যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। মাজারের যেকোনো প্রয়োজনে এবং উন্নয়নমূলক কাজে গ্রামের সাধারণ মানুষ সবসময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাজারটি স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক স্বপন সাহেব-এর বাড়ির খলিয়ানে (উঠানে) অবস্থিত। মাজার সংলগ্ন স্থানেই রয়েছে স্বপন সাহেবের নিজস্ব দাতব্য চিকিৎসালয়। শুধু সাধারণ চিকিৎসায় নয়, আধ্যাত্মিক নানা সমস্যা যেমন ভূত-জ্বিনের আছর বা জাদু-টোনার চিকিৎসায় স্বপন সাহেব অত্যন্ত পারদর্শী।
এ বিষয়ে এক অলৌকিক ও বিস্ময়কর তথ্য জানা যায় যে, এই চিকিৎসার সমস্ত নিয়ম-কানুন ও বিদ্যা স্বপন সাহেবকে খোদ এই মাজার শরিফ থেকেই স্বপ্নের মাধ্যমে শেখানো হয়েছে। এই স্বপ্নাদেশের পর থেকেই তিনি মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো,এই মাজারের উসিলায় তিনি এই জটিল ও সংবেদনশীল চিকিৎসাগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (ফ্রি) করে থাকেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ সেবা মাজারের সুনামকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
প্রতি বছর পবিত্র ১০ই মহররম (আশুরা) উপলক্ষে এই মাজার প্রাঙ্গণে বিশাল মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গণে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নামে। জিকির-আসকার, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে ভক্তরা রাত অতিবাহিত করেন করতেন জায়গার সংকাটাপন্ন হওয়ায় মুলতো এখন দিনে এই অনুষ্ঠানটি দিনে হয়ে থাকে এবং দেশ ও দশের মঙ্গলের জন্য দোয়া করা হয়।
মহাদেবপুরের খোদ্দরায়ণপুরের এই মাজার শরিফটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থানই নয়।এটি এ অঞ্চলের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক আশ্রয় এবং শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন। স্থানীয় দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি দিন যেভাবে এখানে মানুষের সমাগম বাড়ছে, সেই তুলনায় মাজারের অবকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থার আরও সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন করা প্রয়োজন।