নিজস্ব প্রতিবেদক: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কোনো চাপ নয়, বরং ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েই দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

 

বঙ্গভবনের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হওয়ায়, চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানরত স্পিকারের দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিল পুরো প্রক্রিয়া। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপরই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

 

শুক্রবার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, “আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি। আমি এক সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য আমার কাছে ছিল না।” তবে তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।

 

বঙ্গভবনের একটি সূত্র আরও জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কয়েক দিন আগেই বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে বলেছিলেন, “ওরা আমাকে চলে যেতে বলেছে। হয়তো আমার চলে যেতে হবে। তোমরা চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছেড়ে যার যার মতো চলে যাও।

 

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর দায়িত্বে থাকার কথা ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।

 

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকে সবার নজর রয়েছে।

 

বিডি /নিউজ /বাংলা২৪/ ডটকম