অনলাইন সংরক্ষণ : জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য থেকে সরে আসার পথে রয়েছে খেলাফত মজলিস। জোটে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়া, আসন বণ্টনে বৈষম্য এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ঐক্যে তাদের অংশগ্রহণ মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে ছিল। নির্বাচন শেষে জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ কয়েকটি যৌথ কর্মসূচিতে অংশ নিলেও এখন দলটি নিজস্ব সাংগঠনিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। ফলে আগের মতো সমন্বিতভাবে পথচলা সম্ভব নাও হতে পারে।

 

রাজনৈতিক এই দূরত্ব ইতোমধ্যে মাঠের কর্মসূচিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। জামায়াতের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশের পর এবার সিলেট বিভাগীয় সমাবেশেও অংশ নিচ্ছে না খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ই ঢাকায় খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শূরা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় সূত্র বলছে, এই বৈঠক থেকেই জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা থেকে সরে আসার বিষয়ে নীতিগত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে।

 

এ বিষয়ে সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ জানান, ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ শূরা বৈঠক থাকায় দলের শীর্ষ নেতারা সিলেটের সমাবেশে অংশ নেবেন না। এদিকে, জামায়াতের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশের পোস্টার ও প্রচারণা সামগ্রীতেও খেলাফত মজলিসের নেতাদের ছবি বা নাম না থাকায় দুই পক্ষের দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

 

তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ছে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা সিদ্ধান্ত এখনো তাদের কাছে পৌঁছেনি। সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ও স্থানীয় সমন্বয়ক মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

আসন বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ খেলাফত মজলিসের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে থেকেই তারা অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি, জোটের একটি বিশেষ ইসলামী দলকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য শরিকদের সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। বিশেষ করে আসন বণ্টনে বৈষম্য ও পক্ষপাতিত্বের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

 

অন্যদিকে, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক মূলত নির্বাচনী আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ছিল, এটি স্থায়ী রাজনৈতিক জোট ছিল না। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জোট ত্যাগ’ বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শনিবারের কেন্দ্রীয় শূরা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে খেলাফত মজলিস ভবিষ্যতে এককভাবে রাজনীতি করবে, নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণে যুক্ত হবে।

 

বিডি/ নিউজ/ বাংলা২৪/ ডটকম