আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনের তৈরি ২৫০টি এসএইচ-১৫ (SH-15) ট্রাকভিত্তিক স্বয়ংচালিত হাউইটজার (Self-Propelled Howitzer) মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। এই পদক্ষেপকে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর নিজেদের স্থলবাহিনীকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে পাকিস্তান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী কৌশলগত এলাকায় পরিকল্পিতভাবে এসব আধুনিক কামান মোতায়েন শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

 

প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্যমতে, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নোরিনকো (NORINCO) নির্মিত এসএইচ-১৫ মূলত চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) ব্যবহৃত পিসিএল-১৮১ (PCL-181) হুইলড সেলফ-প্রোপেল্ড হাউইটজারের রপ্তানি সংস্করণ। ৬×৬ সাঁজোয়া শানসি ট্রাক চ্যাসিসের ওপর নির্মিত এই কামান দ্রুত মোতায়েন, উচ্চ গতিশীলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সক্ষমতার জন্য পরিচিত।

 

এসএইচ-১৫ একটি ১৫৫ মিলিমিটার/৫২-ক্যালিবার আর্টিলারি প্ল্যাটফর্ম। এটি সাধারণ ন্যাটো-স্ট্যান্ডার্ড গোলাবারুদ ব্যবহার করে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া রকেট-অ্যাসিস্টেড ভি-ল্যাপ (VLAP) প্রজেক্টাইল ব্যবহার করলে এর পাল্লা ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

কামানটিতে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং হাইড্রোলিক স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা সংযুক্ত রয়েছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা যায় এবং প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ছয় রাউন্ড গোলাবর্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি গোলাবর্ষণের পর দ্রুত স্থান পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকায় শত্রুপক্ষের পাল্টা হামলার ঝুঁকিও কমে।

 

ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, ২৫০টি এসএইচ-১৫ কামান যুক্ত হওয়ায় পাকিস্তান একাধিক আর্টিলারি রেজিমেন্টকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করতে পারবে। এর ফলে দেশটির দূরপাল্লার প্রচলিত হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে ভারতও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সাম্প্রতিক এই মোতায়েন দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্য ও সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

বিডি /নিউজ /বাংলা ২৪/ ডটকম