রাণীনগর নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর রাণীনগরে বিভিন্ন হাট-বাজারে দিন দিন বেড়েই চলেছে ধানের দাম। গত ২০ দিন ধরে ধানের দর পর্যায়ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বাজারে ধানের আমদানি কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার উপজেলার ধানের হাট আবাদপুকুর এবং ত্রিমোহনী ঘুরে দেখা গেছে।
মৌসুমের শুরুতে আশানুরূপ দাম না পেলেও বর্তমানে ধানের বাজারদর বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রান্তিক চাষিরা। তবে ধান বিক্রির এই শেষ সময়ে কৃষকদের ঘরে মজুত প্রায় শেষ।
হাটে ধান বিক্রি করতে আসা গাংজোয়ার গ্রামের কৃষক তাছের আলী জানান,আজকে হাটে স্বর্ণালতা জাতের ধান ১৪৮০ টাকা দরে বিক্রি করলাম।মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম না পেলেও আজকের বাজার দরে আমি খুশি।মঙ্গলবার ত্রীমহনী এবং বুধবার আবাদপুকুর হাটের বাজার দর।
কাটারি ধান:১৮০০ টাকা প্রতি মণ (গত ২০ দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা)।স্বর্ণালতা ধান:১৩৭০ থেকে ১৪৮০ টাকা প্রতি মণ।জিরা ধান:১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকা প্রতি মণ।
ধানের দাম বাড়লেও সে তুলনায় চালের বাজারদর না বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন চাতাল ও মিল মালিকেরা। ব্যবসায়ীদের দাবি,বর্তমান চড়া দামে ধান কিনে চাল তৈরি করে বিক্রি করতে গেলে প্রতি মণে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
লোকসানের কারণে রাণীনগরের ১২৭টি হাসকিং মিলের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০টি মিল বন্ধ হয়ে গেছে।কুজাইল বাজারের চাতাল মালিক শীতানাথ ঘোষ জানান,বর্তমান বাজার দরে ধান কিনে চাল বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হচ্ছে। তবুও নানা কারণে কষ্ট করে ব্যবসা ধরে রেখেছি।
ধান ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান জানান, ইরি-বোরো মৌসুমের শেষ দিকে চলে আসায় কৃষকদের কাছে ধান মজুত নেই।বাজারে আমদানি কম বলেই দাম ঊর্ধ্বমুখী।
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, ইরি-বোরো মৌসুম শেষ এবং মাঠে রোপা-আমন ধান রোপণ শুরু হয়েছে।কৃষকেরা পারিবারিক প্রয়োজনে মৌসুমের শুরুতেই বেশিরভাগ ধান বিক্রি করে দেন। ফলে বর্তমানে বাজারে আমদানি কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে।
তবে বাজারে মিলারদের কোনো কারসাজি রয়েছে কি না,তা খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহে মিলগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি। কোনো প্রকার অসঙ্গতি বা অবৈধ মজুত পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।