নিজস্ব প্রতিবেদক : সকালের আলো ফোটার আগেই দেশের দুই প্রান্তে ঘটে গেল দুটি হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর ও সকালে সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জন এবং বগুড়ার এরুলিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ৭ জন দিনমজুর প্রাণ হারান। পৃথক এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৮ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায়। পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের সাত যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত একটি শিশুকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে সিলেটের দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটজনে। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহত ১৩ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

 

এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া বাজার এলাকায় ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রতিদিনের মতো বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুরেরা কাজের আশায় শ্রমিকের হাটে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায়।

 

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন শ্রমিক নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে। আহত হন অন্তত ১৫ জন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

 

নিহতদের মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আমিরুল এবং নূর আলমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

 

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযোগ করেন, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান তারা। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

বিডি /নিউজ /বাংলা ২৪/ডটকম