নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা ১৩ বস্তা আমন ধানের বীজ এক জামায়াত নেতার পরিচালিত মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে উদ্ধার করা বীজগুলো স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের জামেউল উলুম মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে এসব বীজ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত শামসুল ইসলাম হেলালী চরম্বা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। পাশাপাশি তিনি ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার ও অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মাদ্রাসাটি পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ-বিন-আকন্দ। এ সময় সুপারের কার্যালয়ের পাশে একটি কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান তিনি। পরে কক্ষটি খুলে দেওয়া হলে ভেতর থেকে কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা ১৩ বস্তা আমন ধানের বীজ উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম জানান, প্রায় ২০ দিন আগে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য বীজগুলো দেওয়া হয়েছিল। চরম্বা ইউনিয়নটি দূরবর্তী হওয়ায় কৃষকদের দুজন প্রতিনিধির মাধ্যমে বীজ পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ১৫ দিন আগেই এসব বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বিতরণ না করে কীভাবে বীজগুলো একজন রাজনৈতিক নেতার কাছে গেল, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে শামসুল ইসলাম হেলালী বলেন, কৃষকদের মধ্যে বিতরণের জন্য তাঁদের মোট ১৭ বস্তা বীজ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চার বস্তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি বীজগুলো তিনি মাদ্রাসায় রেখে দিয়েছিলেন। ব্যস্ততার কারণে অবশিষ্ট বীজ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ-বিন-আকন্দ বলেন, উদ্ধার করা ১৩ বস্তা ধানের বীজ পরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, কৃষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দের বীজ যথাসময়ে ও সঠিকভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি কৃষি সহায়তার বরাদ্দ ও বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও নজরদারি প্রয়োজন।