অরবিন্দ কুমার দাস, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে আউশ ধান চাষে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কম খরচ, স্বল্প সময় এবং সরকারি প্রণোদনা পাওয়ায় কৃষকরা এখন আউশ চাষে বেশি ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আউশের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

এবার দুপচাঁচিয়ায় ২৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্রি-ধান-৪৮, ব্রি-ধান-৮২ এবং ব্রি-ধান-৯৮ জাতের আউশ ধানে চাষ বেশি হয়েছে। রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম হওয়ায় কৃষকরা এ জাতের ধানগুলো বেছে নিয়েছে।

 

উপজেলার তারাজুন গ্রামের আউশ ধান চাষী আব্দুল হামিদ বলেন তিনি এবার ৪ বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন। আগে বোরো ও আমন ধানের মাঝের সময় জমি পতিত থাকতো। এখন কৃষি অফিসের পরামর্শে আউশ ধান চাষ করছি। এতে অল্প দিনেই ফসল ঘরে তোলা যায় এবং খরচ অনেক কম। তবে ধান ক্ষেতে বর্তমানে বাবুই পাখির উপদ্রুপ বেড়েছে।

 

এ পাখিগুলো ঝাঁক বেঁধে ক্ষেতে এসে পড়ে ধানের কিছুটা ক্ষতি করছে। অপরদিকে পশ্চিম আলোহালী গ্রামের আউশ চাষী মকবুল হোসেন, ছাতিয়াগাড়ী গ্রামের আউশ চাষী শফিকুল ইসলাম-সহ কয়েক জন চাষী জানান, সরকারি ভাবে প্রণোদনার বীজ ও সার পাওয়ায় এবং সেই সঙ্গে কৃষি অফিসের সার্বিক দিক নির্দেশনায় এ ধান আবাদ করতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও পাখির উপদ্রæপ না হলে আউশের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তাঁরা।

 

উপসহকারী কৃষি অফিসার সেলিম হোসেন মিয়া বলেন, আউশ ধান চাষে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে তারা মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, আউশ ধান চাষ জনপ্রিয় করতে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উফশী জাতের ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।

 

এছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। বোরো ও আমনের মধ্যবর্তী সময়ে আউশ চাষ কৃষকদের জন্য একটি বাড়তি লাভজনক ফসল হিসাবে প্রামাণিত হচ্ছে। পাখির উপদ্রুপ ব্যাপারে তিনি বলেন, পাখির আক্রমণ কমাতে কৃষকদের বøকভিত্তিক আউশ ধান চাষে পরামর্শ দেন তিনি। বর্তমানে ক্ষেতের যে অবস্থা তাতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম