কারিমুল হাসান, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: শেয়াল বণ্য মাংসভোজী বন্য প্রানী। আদিকাল থেকে বনেই এদের বসবাস হলেও অনেক প্রাচীন কাল থেকেই গ্রাম, শহর বা পাড়া মহল্লার জঙ্গল ঝোপঝাড়ে মাটির গর্তে বসবাস করে আসছে। মাংসভোজী হওয়ায় প্রায়ই গৃহপালিত পশু, পাখি যেমন ছাগল, হাঁস, মুরগী এসব ভক্ষন করতে বিভিন্ন বাড়িতে হানা দেয়।

 

বগুড়ার ধুনটে বেশ কয়েক বছর ধরে বাড়ীর আশেপাশে আবাদী জমিতে ভূট্টার চাষ বেশী হওয়ায় শেয়ালে উৎপাত অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামের বাড়ীতে গ্রামীন পরিবেশে ছেড়ে দেয়া অবস্থায় হাঁস ও মুরগী পালন অনেকটা কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ সময়ই শেয়ালদের দলবদ্ধ ভাবে ভূট্টা খেতে দেখা যায়। পরবর্তীতে হাঁস, মুরগী কিংবা একটি পরিবারের উচ্ছষ্ট খাবার গ্রহনের জন্য বাড়ীর আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে শেয়াল।

 

প্রয়োজনের তুলনায় আহার করতে না পারায় অনকেট উগ্র হয়ে গরু, মহিষসহ অন্যান্য প্রাণীদের কামড় দেয়াসহ মানুষের শরীরেও কামড় দিতে থাকে শেয়াল। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে গ্রামের মেঠো পথে অথবা বাড়ীর আশেপাশে ওঁৎ পেতে থাকে শেয়াল গুলো। গ্রামের শিশুসহ অনেকে শেয়ালের আক্রমনের শিকার হচ্ছেন।

 

অুনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি বগুড়ার ধুনট উপজেলার পৌরসভার সদরপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম (৬৫), জিঞ্জিরতলা এলাকার শিশু সিয়াম (৪) ও নাসিমা (৬০), ধুনট সদর ইউনিয়নের পেঁচিবাড়ী গ্রামের রোহান (৭) ও রিয়াজুল (৩) নামের ব্যক্তিরা শেয়ালের আক্রমনের শিকার হন। শেয়ালের আক্রমনে আহত ব্যক্তিরা গত ২৫ আগষ্ট মঙ্গলবার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা গ্রহন করেছেন।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার জিঞ্জিরতলা এলাকায় বাড়ির বাইরে খেলাধুলার সময় শিশু সিয়ামকে আক্রমন করে শেয়াল। এসময় নাসিমা নামের আরো একজন এগিয়ে এসে শেয়ালটি তাড়ানোর চেষ্টা করলে তাকেও কামড় দেয়। অন্যদিকে, পেঁচিবাড়ী গ্রামে বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় রোহান ও রিয়াজুল কে আক্রমন করে শেয়াল। পরে স্বজনেরা আহতদের দ্রুত ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পত্র প্রদান করেন।

 

‎ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এস এম সুমনুল হক বলেন, শেয়ালের কামড়ে আহত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত জলাতঙ্কের টিকা রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত জলাতঙ্ক বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো প্রাণীর কামড়ের শিকার হলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শও দেন তিনি। বিশেষ করে ভোর ও সন্ধ্যাকালিন সময়ে প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের বাড়ীর বাহিরে থাকা উচিৎ নয় বলে মনে করেন স্থানীয় অনেকে।

 

 

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম