আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালে তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ও পাথর ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে বৃহস্পতিবারও দুর্গত এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৬২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে নিম্নাঞ্চলীয় চিতওয়ান জেলায় ৬৪ জন এবং পূর্ব নওয়ালপরাসি জেলায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উত্তর নেপালের পাহাড়ি ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুওয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, যানবাহন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত এলাকাটি ট্রেকিং ও তীর্থযাত্রার জন্য জনপ্রিয় হওয়ায় নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রীও রয়েছেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মা জানিয়েছেন, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ার, ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের এবং ২৪ জন কানাডার নাগরিক। এদিকে চীনের তিব্বত অংশেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, গিরং এলাকায় তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
নেপাল-চীন সীমান্তের গিরং স্থলবন্দর ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়া মাটি ও ধ্বংসস্তূপে সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে অনুসন্ধানে সীমান্তের বেশ কয়েকটি সড়ক পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ছবির প্রাথমিক বিশ্লেষণে বরফ ও পাথরের ধসের কারণে লেন্দে নদীতে কাদা ও পাথরের ভয়াবহ স্রোত তৈরি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
দুর্যোগে অনেক পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছেন। ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল রয়টার্সকে জানান, কাদার বিশাল স্রোত তাদের ঘরে ঢুকে পড়লে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাদার স্রোতে তার স্ত্রী ভেসে যান। কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে উদ্ধার হলেও এখনো স্ত্রীর সন্ধান পাননি তিনি। নিখোঁজদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও জাপানের নাগরিকও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, দেশটির ৩৪ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সরকারও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, নেপালের দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় জাতিসংঘের দল ও সহযোগী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে নেপাল থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিহারের ছয়টি জেলা থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রবল স্রোত ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।