​বিডি নিউজ বাংলা ২৪ প্রতিবেদক:

গ্রাম-গঞ্জের চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানেই মাঝেমধ্যে একটি গুঞ্জন বেশ জোরেসোরে শোনা যায়। তা হলো ম্যাগনেটিক পিলার বা ব্রিটিশ আমলের সীমানা পিলার। প্রচলিত আছে এই পিলারে এমন এক অলৌকিক চুম্বকীয় শক্তি আছে যা লোহাকে আকর্ষণ করে বজ্রপাত শোষণ করে এবং এর ভেতরে থাকা মহামূল্যবান ধাতু রাতারাতি কোটিপতি বানিয়ে দিতে পারে। এই তথাকথিত ম্যাগনেটিক পিলারের মোহে পড়ে কোটি টাকা খুইয়ে আজ নিঃস্ব হয়েছেন অনেক মানুষ। শুধু বাংলাদেশেই নয় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই পিলারের মরুচিকার পেছনে ছুটছেন অনেকে।

​কিন্তু আসলেই কি এই পিলারের কোনো জাদুকরি ক্ষমতা আছে, নাকি পুরোটাই এক পরিকল্পিত প্রতারণা? চলুন জেনে নেওয়া যাক এর পেছনের আসল সত্য।


​বজ্রপাত প্রতিরোধক বলা হয় এই পিলারগুলোতে বিশেষ ধাতু আছে যা আকাশ থেকে পড়া বজ্রপাতকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেয় ফলে আশেপাশের এলাকা নিরাপদ থাকে।

​মহামূল্যবান ধাতু অনেকের দাবি, পিলারের ভেতরে ‘ইউরেনিয়াম বা অপারেশানাল মেটাল আছে, যার আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কোটি কোটি টাকা।
​রাইস পুলার বা অলৌকিক শক্তি প্রতারকেরা দাবি করে, এই পিলারগুলোর সামনে চাল রাখলে তা নাকি পিলারের দিকে টেনে নেয়

ম্যাগনেটিক পিলারের এই জাদুকরি ক্ষমতার পুরো বিষয়টিই শতভাগ মিথ্যা এবং এক বিশাল ধাপ্পাবাজি।​ ব্রিটিশ শাসনামলে (বিশেষ করে ১৮ শতকের জরিপের সময়) ড্রইং এবং মানচিত্র নিখুঁত করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে এই পিলার বা খুঁটিগুলো পোঁতা হয়েছিল। এগুলো মূলত সাধারণ লোহা কংক্রিট, সিসা এবং তামার মিশ্রণে তৈরি সীমানা নির্দেশক খুঁটি মাত্র।

​কোনো রেডিওঅ্যাক্টিভ বা মূল্যবান ধাতু নেই ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, উদ্ধার হওয়া কোনো পিলারে ইউরেনিয়াম বা কোনো মূল্যবান তেজস্ক্রিয় পদার্থ নেই।

​বিজ্ঞানসম্মত কোনো ভিত্তি নেই বিজ্ঞানীদের মতে কোনো পিলারের পক্ষে কয়েক কিলোমিটার দূরের বজ্রপাত টেনে নেওয়া বা শোষণ করা অসম্ভব। বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য এই পিলারের কোনো ভূমিকা নেই।

​ম্যাগনেটিক পিলারের ব্যবসা আসলে একটি সুসংগঠিত ঘোস্ট স্ক্যাম বা অদৃশ্য প্রতারণার ফাঁদ। প্রতারক চক্র যেভাবে সাধারণ মানুষকে বোকা বানায়
প্রতারকেরা পিলারের গায়ে বা চালের মধ্যে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক (যেমন আয়রন অক্সাইড বা বিশেষ আঠা) ব্যবহার করে এক ধরনের কৃত্রিম আকর্ষণ তৈরি করে। সাধারণ মানুষ বিজ্ঞানের এই সাধারণ ট্রিকস বা কারসাজি না বুঝে একে অলৌকিক ক্ষমতা বলে ধরে নেয়।

​তারা প্রথমে কোনো এক নির্জন স্থানে নকল পিলার পুঁতে রাখে। এরপর কোটি টাকার লোভ দেখিয়ে কোনো ধনী বা অতি লোভী ক্রেতাকে ফাঁদে ফেলে। অগ্রিম বাবদ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর চক্রটি উধাও হয়ে যায়। লোকলজ্জা এবং আইনি ঝামেলার ভয়ে ভুক্তভোগীরা সাধারণত পুলিশকেও এই বিষয়ে কিছু জানায় না।

​ম্যাগনেটিক পিলার বলে অলৌকিক বা জাদুকরি কোনো কিছুর অস্তিত্ব পৃথিবীতে নেই। এটি পুরোপুরি একটি মনগড়া গল্প যা সাধারণ মানুষের লোভকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও বারবার সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে যেন কেউ এই ধরনের গুজবে কান দিয়ে নিজের জমানো টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে না দেন। রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার এই মোহ কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে কোটিপতি নয়।