আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় এক পুলিশ সদস্যের ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বাবা মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন, অন্যদিকে কিশোরী নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিখোঁজ কিশোরীর নাম তসনিয়া রানা তামান্না (১৭)।
তার বাবা মো. রানা মাসুদ আদমদীঘি থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে প্রথমবার নিখোঁজ হন তামান্না। এ ঘটনায় তার বাবা জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাসিন্দা শহিদ হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করলে তামান্না জবানবন্দিতে জানান, তিনি শহিদ হোসেনের সঙ্গে স্বেচ্ছায় বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বয়স কম হওয়ায় এবং মেডিকেল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে বাবার জিম্মায় ফেরার একদিন পর, ১ মে সকালে তামান্না আবারও শহিদ হোসেনের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় পুনরায় অভিযোগ দায়ের করা হলে ৭ মে আদমদীঘি থানায় আরেকটি মামলা হয়। বর্তমানে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।
দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার পর তামান্না নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে দাবি করেন, তাকে অপহরণ করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহিদ হোসেনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং উভয়ের সম্মতিতেই তারা সংসার করছেন। পারিবারিক অমতের কারণেই অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে কিশোরীর বাবা রানা মাসুদ অভিযোগ করেন, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার কাছে ঘুষ দাবি করেছিলেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা রুজু করা হয় বলে তার দাবি।
মেয়েকে এখনো উদ্ধার করা না যাওয়ায় তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন এবং একজন পুলিশ সদস্য হয়েও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, ঘুষ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।