​

রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ায় চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ইশতিয়াক জামান ইরাম (১৮) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর বাঁ পা কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া চার বন্ধুকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বগুড়া শহর। মঙ্গলবার বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও বগুড়া জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বগুড়া সরকারি বাণিজ্যিক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক জামান ইরামের বাঁ পা ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর চার বন্ধু ও সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি বিভাগ থেকে ট্রলিতে করে ওয়ার্ডে নেওয়ার সময় ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করেন এক ট্রলিম্যান। বকশিশের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হলে হাসপাতালের স্টাফ ও আনসার সদস্যরা একজোট হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন।

একপর্যায়ে পুলিশ ডেকে এনে উল্টো মারধরের অভিযোগ তুলে ইরামের চার বন্ধুকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ওই চার শিক্ষার্থীকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠন। ইরামের বাবা শাহাদৎ জামান মজনু অভিযোগ করেন, বন্ধুদের গ্রেপ্তারের পর আতঙ্ক ও মানসিক ট্রমার মধ্যে থাকা ইরামের চিকিৎসায় চরম অবহেলা প্রদর্শন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক্স-রে ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করা হয়। ​দুদিন পর ইরামের পায়ের আঙুল অবশ হয়ে গেলে টনক নড়ে চিকিৎসকদের। তখন তড়িঘড়ি করে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।

গত রোববার রাতে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) জরুরি অস্ত্রোপচার করে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন বাঁচাতে বাঁ পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। সাতমাথায় আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুমূর্ষু বন্ধুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াটাই কি অপরাধ ছিল? চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও হাসপাতালের স্টাফদের অমানবিক আচরণ আজ একটি তরতজা তরুণের জীবন চিরতরে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বজ্ঞানহীন স্টাফদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এবং ইরামের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম