নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এক সমাবেশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজিরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইমরান নাজির এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ছাত্রশিবির ধৈর্যের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাদের কোনো নেতাকর্মীর ওপর হামলা হলে এর ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করার কথাও বলেন। এর আগে মঙ্গলবার সকালে পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রশিবিরের তিনজন এবং ছাত্রদলের দুজনসহ পাঁচজন আহত হন। আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজে ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়। সকালে সেখানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এদিকে ছাত্রশিবিরের সভাপতির বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন ছাত্রদলের রাজশাহী মহানগরের সদস্যসচিব এমদাদুল হক (লিমন)। রাতে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ইমরান নাজিরকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন।
এমদাদুল হক বলেন, রাজশাহীর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ছাত্রদল রাজপথে নামলে ছাত্রশিবির রাজশাহীতে ‘পা ফেলার জায়গা পাবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পদ্মা সরকারি কলেজের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বহিরাগতরা যোগ দিয়ে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন এমদাদুল হক। তবে তার এ অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান বলেন, সকালে একটি ঘটনা ঘটেছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।