অরবিন্দ কুমার দাস, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং প্লাস্টিক পণ্যের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশের তৈরী এতিহ্যবাহী কুটির শিল্প। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও দীর্ঘ ৩৫ বছরে ধরে বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরী করে তা হাট বাজারে বিক্রি করে ৬ সদস্যের সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন গিরীন বৈরাগী। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার পালপাড়া মহল্লার গিরীন বৈরাগীর দিন শুরু হয় বাঁশ কাটার শব্দ দিয়ে। তারপর নিপুণ হাতে তৈরী করেন কুলা, ডালা, ঝুঁড়ি, খাঁচা ও চালুন সহ নিত্য প্রয়োজনীয় নানান জিনিসপত্র। সেই তরুণ বয়স থেকেই তিনি জীবিকার প্রধান মাধ্যম হিসেবে আঁকড়ে ধরে আছেন।গিরীন বৈরাগী বলেন, বাপ দাদার আমল থেকে এই কাজ শিখেছি।

 

প্লাস্টিকের জিনিস আসার পর এখন বাঁশের তৈরী তৈজসপত্রের চাহিদা আগের মতো নেই। তারপরেও এই কাজ ছাড়তে পারি না। বাঁশের তৈরী পণ্য বিক্রি করেই ৬ সদস্যের সংসার চালাচ্ছি। স্ত্রী সন্তানদের হাহাকার বুঝতে দেইনি। এক সময় পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে এসব পণ্য বেচাকেনা করলেও এখন স্থানীয় হাট-বাজারে এসব পণ্য বিক্রি করেন তিনি। সাড়াদিন হাড় ভাঙ্গা খাটুনির পর যা আয় হয় তা দিয়েই চলে ৬ জনের অন্ন, বস্ত্র ও অন্যান্য খরচ। বর্তমানে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং প্লাস্টিকের সহজলভ্যতার কারণে লাভ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এই পেশার পাশাপাশি ৭৬ বছর বয়সেও তিনি সনাতন ধর্মের নাম সংকীর্তন গেয়ে থাকেন। এ থেকেও যৎ সামান্য উপার্জন হয়।

 

এলাকাবাসী ও স্থানীয় ক্রেতারা জানান, গিরীন বৈরাগীর তৈরী পণ্যের মান খুব ভালো ও টেকসই হয়। তবে সরকারি বা বেসরকারিভাবে যদি এই কুটির শিল্পীকে স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা বা পৃষ্ঠপোষকতার করা হতো, তাহলে গিরীনের মতো কারিগররা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারতেন। সব মিলিয়ে শত কষ্টের মাঝেও গিরীন বৈরাগীর এই সততা ও দীর্ঘ ৪ দশকের লড়াই অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা।

 

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম