কারিমুল হাসান, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনটে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাট চাষ হয়েছে ৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে। যা চলতি ২০২৬-২৭ সালে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর। কৃষকদের আগ্রহের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দাড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমি। অনুকূল আবহাওয়ায় বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকে মুখে ফটেছে সাফল্যের হাসি। উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও দামে পুষিয়ে নিচ্ছেন কৃষকেরা। মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২শ থেকে ৫ হাজার ৫শ টাকায়। যা গত বছর ছিলো ৩ হাজার ২শ থেকে ৪ হাজার ৫শ টাকা।

 

কৃষকদের হিসাব মতে চলতি মৌসুমে চাষিরা প্রতি বিঘা জমির পাট বিক্রি করে লাভ হচ্ছে ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও প্রতি বিঘার পাটখড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা। অনেকেই বিঘাপ্রতি ১৪ হাজার টাকা খরচ করে ফলন পেয়েছে ১২ মণ পাট। ধুনট বাজারের পাট ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের রং ও মান ভালো। বাজারে চাহিদা থাকলেও সে তুলনায় আমদানি কম। অনেকে বেশি দামের আশায় পাট গুদামজাত করে রাখছেন। ফলে গত বছরের চেয়ে মণপ্রতি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে।

 

মানভেদে দেশি ও তোষা পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং মেস্তা ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে দুই জাতের পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে তোষা দেশি জাত এবং মেস্তা অন্য জাত। ২০২৬-২৭ সালে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর। কৃষকদের আগ্রহের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫ হেক্টর বেশি।

 

গত বছর উপজেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে। সেই তুলনায় এবার ৪৫ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর ১ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমি থেকে ১৯ হাজার ৭৭৮ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকেরা বাম্পার ফলন পাচ্ছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বীজসহ বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। পাট শুধু আঁশ হিসেবে নয়, পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পাটজাত পণ্য তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষক পর্যায়ে পাটের চাহিদা ও দাম দুটিই বাড়বে বলেও প্রত্যাশা করেন।

 

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম