নিজস্ব প্রতিবেদক : নাটোরের বনপাড়ায় পাবনা-নাটোর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি। আহতদের নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দুপুরে হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক সাংবাদিকদের ১৪ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে তথ্যগত অসংগতির কারণে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। এ সময় চালক স্টিয়ারিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—মো. সোহাগ (৩০), মো. আলাল (৪১), শাহিন (৩২), সামাদ ফকির (৭০), সোহেল রানা (৪০), আনোয়ার হক (৩০), তাজিয়া (৮), সাইদুল ইসলাম (৪৫), ট্রাকচালক আবু সালাম ও জুয়েল (৪০)।

নিহতদের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ২০ জনেরও বেশি ব্যক্তি নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। মহাসড়কে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম