অনলাইন ডেস্কঃ

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিস্তা অববাহিকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার। এছাড়া বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড-শোর আয়োজন করবে। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির কাছে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রযাত্রায় উন্নয়ন সহযোগীদের অব্যাহত সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির বাংলাদেশ অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলারের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সহযোগিতা চাওয়া হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বৈঠক শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানা। পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম অংশ। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি আট সদস্যের আরেকটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আগামী দেড় মাসের মধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়নে সময় লাগলেও সরকার দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে।

র্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তিস্তা পাড়ের সন্তান। তিস্তা ঘিরে বিভিন্ন আন্দোলনে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিলাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও এসব আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। দ্রুত কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে অর্থায়ন। অর্থায়ন আমরা জিওবি থেকেই করতে পারি। এটি খুব বড় কোনো বিষয় নয়। ১০ বছরের পরিকল্পনায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। আমি এটিকে বড় কিছু মনে করি না। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা নেয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি বলেন, টেকনিক্যাল সাপোর্ট হয়তো বাইরের বিশ্ব থেকে নিতে হতে পারে।

আমরা পরীক্ষা করে দেখব কোন দেশের কাছ থেকে সেই সহায়তা নেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, আজকের সভা থেকে আমি আশান্বিত। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা জাতির সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারব কবে, কোন দিন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করা যাবে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। খুব শিগগিরই তিস্তা পাড়ের মানুষ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন।

তিনি জানান, মহাপরিকল্পনার আওতায় ব্যারাজ নির্মাণ এবং নদীতে পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। চলতি বছরেই এসব বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। পাশাপাশি মন্ত্রীসহ একটি প্রতিনিধিদল তিস্তা এলাকা পরিদর্শন করবে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ আরো গতিশীল হবে।

তিনি বলেন, কারিগরি কমিটিতে বুয়েটের নদী বিশেষজ্ঞ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি দিক পর্যালোচনা করছেন।

এদিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড-শোর আয়োজন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বন্ধ কারখানা চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করে তুলতে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ নেয়া হচ্ছে। সভায় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রযাত্রায় উন্নয়ন সহযোগীদের অব্যাহত সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি- ইউএনডিপির বাংলাদেশ অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলারের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সহযোগিতা চাওয়া হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির চলমান সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ফলপ্রসূ করতে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।

স্টেফান লিলার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ইউএনডিপির দৃষ্টিতে জাতীয় সংসদ বর্তমানে বেশ প্রাণবন্ত। দেশের গণতন্ত্রও আরো শক্তিশালী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নেয়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়েও তিনি অবহিত করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউএনডিপির স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এক্সটার্নাল রিলেশন্স স্পেশালিস্ট কীর্তিজাই পাহাড়ি এবং হেড অব গভর্ন্যান্স আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।