অরবিন্দ কুমার দাস, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরতেই হেমন্তের আগমনে বাংলার প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে ভিন্ন এক হাওয়া। সকালের সোনাঝড়া রোদের সাথে সাথেই মাঠের সবুজ ঘাস, কচি ধানের পাতা আর বুনোফুলের ওপর জমতে শুরু করেছে মুক্ত দানার মতো শিশির বিন্দু। রাতের শেষ ভাগ থেকে সকাল পর্যন্ত বয়ে যাওয়া হালকা হিমেল হাওয়া আর মৃদু কুয়াশা জানান দিচ্ছে ধীরে ধীরে দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। প্রকৃতির এমন রূপ বদলে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় শীতের এই চিরচেনা রূপ চোখে পড়ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফজরের নামাজে বের হওয়া মুসল্লি কিংবা মাঠে যাওয়া কৃষকের গায়ে লাগছে শীতের হালকা পরশ। ভোরে ঘুম থেকে ওঠা মানুষ, স্কুলগামী শিশুদের কণ্ঠেও অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। যদিও দিনের বেলায় রোদের তাপে প্রখর গরম অনুভূত হচ্ছে, তবে সন্ধ্যার পর থেকে রাতের তাপমাত্রা কমে আসায় প্রকৃতি তার রূপ বদলাতে শুরু করেছে।
উপজেলার সাগরপুর গ্রামের মুসল্লি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আগের তুলনায় একটু ঠাণ্ডা লাগে। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে অবারিত মাঠে ধানের শীষ ও ঘাসের ওপর শিশির জমে থাকতে দেখা যায়। সেই সাথে হালকা কুয়াশাও দেখা যায়। সব মেলে মনে হচ্ছে শীতকাল ধীরে ধীরে চলে আসছে।
ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। ভোরেই মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকেরা। কেউ জমি থেকে শাকসবজি তুলে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত ফসলের পরিচর্যায়। আবার কেউ সকালের চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুরু করছেন দিনের কাজ।
উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন মিঠু বলেন, ভোরে মাঠে যাওয়ার সময় কিছুটা ঠাণ্ডা অনুভব করি। সকালের মৃদু কুয়াশা মনে করিয়ে দেয় শীতের আগমনীর কথা। রাতে গায়ে পাতলা কাঁথা দিতে হয়। আগের মতো বৈন্দুতিক পাখা সারাক্ষণ চালানোর দরকার হয় না। মনে হচ্ছে অচিরেই শীত আসছে।
এখনো শীতের তীব্রতা অনুভূত না হলেও রাত ও ভোরের হালকা ঠাণ্ডা, শিশির ভেজা ঘাস আর কুয়াশা ডাকা মেঠো পথ গ্রামীণ প্রকৃতিতে পাচ্ছে ভিন্ন মাত্রা। প্রকৃতির এই নিরব পরিবর্তন স্থানীয় মানুষের মনে শীতের আগমনের প্রত্যাশা জাগাচ্ছে।
উপজেলার চামরুল আজিমুদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক নজাবত আলী জানান, বাংলাদেশ ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ। এখানে প্রতিটি ঋতু প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নিয়ে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শিউলী ফুলের সুবাস, শিশির ভোজা ভোরের হালকা হিমেল হাওয়ায় জানিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।