অরবিন্দ কুমার দাস, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব মূখর পরিবেশে সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে রোববার উদযাপিত হয়েছে। ধন-ধান্য, ঐশ্বর্য ও সৌভাগ্যের দেবী লক্ষ্মীর কৃপা লাভের আশায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে এ পূজার আয়োজন করা হয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে ভক্তরা রাত্রি জেগে থেকে লক্ষ্মীর পূজা করে বলে একে বলা হয় কোজাগরী পূর্ণিমা বা কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা।
পঞ্জিকা মতে, পূর্ণিমা তিথি শুরু ২৫ অক্টোবর রোববার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে এবং ২৬ অক্টোবর সোমবার সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে শেষ হবে। তাই রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর এই তিথির শুভক্ষণে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ পূজার উপকরণ হলো সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আমের পাতা, ফুল, দুর্বা, তুলশীপাতা, ধুপ, চন্দন, আতপ চাল সহ অন্যান্য উপকরণ। লক্ষ্মীপূজায় মঙ্গল ঘট স্থাপনের সঙ্গে গৃহস্থের আঙ্গিনায় আল্পনায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ শোভা পায়। এ উপলক্ষে হিন্দু নারীরা উপবাস ব্রত পালন করেন।
লক্ষ্মীপূজায় রাত্রী জাগরণ করা হয়। শাস্ত্র মতে, এই রাতে লক্ষ্মী সবার বাড়ি যান। যে গৃহস্থের দরজা বন্ধ থাকে ও গৃহস্থরা ঘুমিয়ে থাকে, সেখান থেকে দেবী লক্ষ্মী ফিরে আসেন। এ কারণে এই লক্ষ্মীপূজাকে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বলা হয়। সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, শুদ্ধচিত্তে পূজায় দেবী লক্ষ্মীকে সন্তুষ্ট করতে পারলে তিনি ধন-ধান্যে ভক্তের গৃহ ভরিয়ে দেন। তাতে ভক্তরা সম্পদে, জ্ঞান ও সৌভাগ্যের অধিকারী হন। তাই অনেকেই মূর্তি ছাড়াও বাড়িতে লক্ষ্মীর ঘট স্থাপন করে পূজা করেন।
পুরোহিত অমীয় মৈত্র বলেন, লক্ষ্মী ধন-সম্পদের দেবী। তাই ব্রত থেকে পূজা করে দেবীকে সন্তুষ্ট করতে পারলে ভক্তের আশা পূরণ হয়। প্রতিটি মানুষের জীবনে যেন মঙ্গল বয়ে আসে পূজায় দেবী রূপী মা লক্ষ্মীর চরণে এই প্রার্থনা করি।