স্টাফ রিপোর্টারঃ

নওগাঁর রাণীনগরে থানা পুলিশের ওপর হামলা, মারধর, লাঞ্ছিত এবং মব সৃষ্টির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় রিফাত হোসেন (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।​গ্রেফতারকৃত রিফাত হোসেন উপজেলার গোনা ইউনিয়নের বড়বড়িয়া গ্রামের কেয়ারব আলীর ছেলে।

​রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, উপজেলায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার প্রতিরোধে গত ২১ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার বিজয়কান্দি-বড়বড়িয়া রেললাইন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছিলেন থানা পুলিশের এসআই রতন ও এএসআই ওবাইদুর।

​অভিযান চলাকালে একটি নির্জন স্থানে দুই যুবককে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশ তাদের পরিচয় জানতে চায়। এ সময় বিজয়কান্দি-বড়বড়িয়া গ্রামের আশিক নামে এক যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি থেকে লোকজন ডেকে আনে। এরপর ১২ থেকে ১৫ জন মিলে এসআই রতন ও এএসআই ওবাইদুরের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর ও লাঞ্ছিত করে এবং একটি মব বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

​এই ঘটনার পরপরই রাতেই থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় আসামি রিফাত হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
​মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৫ মাসের কারাদণ্ড
​অপরদিকে শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাণীনগর উপজেলার হাসপাতাল মোড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাবিলা ইয়াসমিন ।

​এ সময় প্রকাশ্য স্থানে মাদক সেবনের অপরাধে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি গ্রামের মৃত মনতাজ প্রামাণিকের ছেলে ফিরোজ প্রামাণিককে (৩০) ৫ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
​৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
​এছাড়া, শুক্রবার রাতে থানা পুলিশের পৃথক আরেকটি অভিযানে ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত আসামির নাম জামাল প্রামাণিক (৫০)। তিনি উপজেলার খট্টেশ্বর হাদিপাড়া এলাকার মৃত বাসেত প্রামাণিকের ছেলে।

​রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল নিশ্চিত করেছেন যে গ্রেফতারকৃত ও দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ জনকেই শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।​তিনি আরও জানান ​পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
​জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আগামীতেও চলমান থাকবে।