রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে শাজাহানপুর উপজেলার জামাদারপুকুর এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। পরে স্থানীয় থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ১০টার দিকে শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন চালকরা। এ সময় তারা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের জোর দাবি জানান।

​হঠাৎ এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে মালবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাসসহ প্রায় দেড় হাজার যানবাহন আটকা পড়ে। ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তীব্র গরমের মধ্যে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

​চালকদের অভিযোগমাসিক ৮০০ টাকা চাঁদা, না দিলে মামলা ও মারধর ​বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ,বগুড়া থেকে নন্দীগ্রাম এবং নাটোরের সিংড়া পর্যন্ত সড়কে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ প্রতি চালকের কাছ থেকে মাসিক ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে। আর এই চাঁদা সংগ্রহের জন্য পুলিশ কিছু নির্দিষ্ট লাইনম্যান বা দালাল নিয়োগ করেছে।

​চাহিদামত চাঁদা না দিলে মাঝপথেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া অটোরিকশা জব্দ করা, মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং চালকদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল। তিনি উত্তেজিত চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন। প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনা ও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পর দুপুর ১২টার দিকে চালকরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

​চাঁদাবাজির এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ উদ্দিন। তিনি দাবি করেন

​হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্যের সিএনজি থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। তবে যদি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।