জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে দুটি পা-ই ভেঙে দেওয়ার নৃশংস অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আদালতে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীর ১৮ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে অপহরণ ও ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে স্বামীসহ দু’জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
নৃশংসতার শিকার ওই গৃহবধূর নাম ভরতী রানী রায় (২৪)। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার খালীশা মদাতী গ্রামের ধরনী চন্দ্র বর্মনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী দীপন দেব সিংহ (৩০) হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব বেজগ্রাম গ্রামের মৃত তরণী কান্ত সিংহের ছেলে।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য ভরতী রানীর ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে যৌতুকের দাবিতে স্বামী দীপন দেব সিংহ ও শাশুড়ি অনিতা রাণী রায় ভরতী রানীর ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালান। লাঠিসোঁটার আঘাতে ভরতী রানী গুরুতর আহত হন এবং তার দুটি পা-ই ভেঙে যায়।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবার হাতীবান্ধা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলেও পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বাধ্য হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়।
পরবর্তীতে লালমনিরহাটের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করা হলে, আদালত বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাতীবান্ধা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
আদালতে মামলার খবর জানতে পেরে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিযুক্তরা। গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে স্বামী দীপন দেব সিংহ এবং তার প্রতিবেশী সহযোগী তপু চন্দ্র বর্মন (২২) ভরতী রানীর বাবার বাড়িতে চড়াও হন।
একপর্যায়ে তারা কৌশলে ভরতী রানীর ১৮ মাস বয়সী অবুঝ শিশু সন্তান দুয্য দেব সিংহকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিবারের লোকজনের চিৎকার শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী ছুটে এসে দীপন ও তপুকে হাতেনাতে আটক করে এবং কালীগঞ্জ থানা পুলিশে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীপন দেব সিংহের ভাই গৌতম দেব সিংহ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন।শিশুটিকে মূলত অপহরণ করে ভারতে পাচার করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল বলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র গুঞ্জন রয়েছে।
এছাড়া বর্তমানে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভরতী রানী ও তার পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।গুরুতর আহত ভরতী রানী বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও জীবন শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, আদালতের নির্দেশনা ও অভিযোগটি তারা হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এবং সংবেদনশীলতার সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।