1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আদমদীঘিতে জাতীয় যুব দিবস পালিত রাণীনগরে জাতীয় যুব দিবস পালিত আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন আদমদীঘিতে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নারীদের অংশ গ্রহনে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় রাস্তা দখল, উচ্ছেদ অভিযানে বাধা: সিটি কর্পোরেশনের কর্মীকে ছুরিকাঘাত, এক যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে আত্রাইয়ের নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন দুপচাঁচিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ এবারও শীর্ষে রাজশাহী থেকে বাড়ি ফেরা হলো না জয়া রানীর, ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষিকার উখিয়ার ইনানীতে মাটির গভীর থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, ২০০ মিটারে ১৪৪ ধারা জারি পাবনায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত অন্তত ৫

তিস্তায় আবারও পানি বৃদ্ধি, বিপদসীমা অতিক্রম, প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় নিম্নাঞ্চল

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪৬ বার পঠিত

‎
‎
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,‎​ লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: উজানের পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

‎
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার(০৯ জুলাই) রাত ৯টা পর্যন্ত তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২.১৮ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২.১৫ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

‎
ডালিয়া পানি পরিমাপক কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, রাত ৯টায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। এই পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ, পানি বর্তমানে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তা বিপদসীমা অতিক্রম করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) গেট সচল রাখা হয়েছে।

‎​
গত কয়েক দিন পানি কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি আসে। কিন্তু রাতের ব্যবধানে পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তিস্তার চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলগুলোর নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করায় গবাদি পশু ও পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শঙ্কিত অনেক কৃষক।

‎​
তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে নদীর পানির স্তর বারবার ওঠানামা করছে।

 

তিনি বলেন, আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। নদীর পানির গতিপ্রকৃতি দেখে গেটগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মাইকিং বা অন্যান্য উপায়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‎
‎পাউবোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে।

‎​
তিস্তা তীরবর্তী লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকার বাসিন্দাদের রাত থেকেই সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং গবাদি পশুগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

‎
‎অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা যায়।

‎
সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান জানান, জেলা প্রশাসন পুরো পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

 

কোনো এলাকা প্লাবিত হলে যেন তাৎক্ষণিক সেবা পৌঁছানো যায়, সেজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি দ্রুত ত্রাণ হিসেবে বিতরণের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রস্তত রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

‎

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর