1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আদমদীঘিতে জাতীয় যুব দিবস পালিত রাণীনগরে জাতীয় যুব দিবস পালিত আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন আদমদীঘিতে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নারীদের অংশ গ্রহনে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় রাস্তা দখল, উচ্ছেদ অভিযানে বাধা: সিটি কর্পোরেশনের কর্মীকে ছুরিকাঘাত, এক যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে আত্রাইয়ের নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন দুপচাঁচিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ এবারও শীর্ষে রাজশাহী থেকে বাড়ি ফেরা হলো না জয়া রানীর, ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষিকার উখিয়ার ইনানীতে মাটির গভীর থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, ২০০ মিটারে ১৪৪ ধারা জারি পাবনায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত অন্তত ৫

বহুমুখী সমস্যা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলীনের পথে আত্রাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ১৮৪ বার পঠিত

 

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ মৃৎশিল্প একটি অতি প্রাচীন শিল্প। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কুমার বা কুম্ভকার সম্প্রদায়। প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের পাল বর্ণের মানুষরা মাটি দিয়ে বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

 

তবে সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ এই শিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বহুমুখী সমস্যা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আজ সংকটের মুখে এ মৃৎ শিল্প। নওগাঁ জেলার ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী দাঁড়িয়ে থাকা ভবানীপুর পালপাড়া যেন শিল্পীর তুলিতে আকাঁ একটি স্বর্ণালী ছবি।

আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর, রাইপুর, মিরাপুর, নন্দোনালী, সাহেবগঞ্জ, পাঁচুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য কুটিরের নয়নাভিরাম মৃৎ শিল্পীদের বাসস্থান। যা সহজেই যে কারোর মনকে পুলকিত করে।

যেখানে থাকার কথা ছিল কর্মব্যস্ততা, সেখানে এখন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা আর বিষাদের ছায়া। কুমার পল্লী গুলোতে আনন্দের বদলে দেখা মিলছে দুঃখ, হতাশা ও টিকে থাকার সংগ্রামের চিত্র।

রঙিন মাটির হাতি–ঘোড়া, গরু, হাঁড়িপাতিল কিংবা ফুলের টব দিয়ে সাজানো হতো শিশুদের শৈশব আনন্দ। কিন্তু আজ আধুনিকতার চাপে সেই শিল্প হারাচ্ছে আলো। শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে যে হাতে একসময় মাটির খেলনা তৈরি হতো, সেই হাতগুলো এখন ব্যস্ত শুধুই জীবিকার লড়াইয়ে।

প্লাস্টিক ও বাজারি সামগ্রীর দাপটে কুমারদের শিল্পকর্ম হারাতে বসেছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নিয়োজিত মৃৎশিল্পিদের অধিকাংশ পাল সম্প্রদায়ের।

প্রচীন কাল থেকে ধর্মীয় এবং আর্থ সামাজিক কারণে মৃৎশিল্পে শ্রেণীভ’ক্ত সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা মৃৎশিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহন করে। বর্তমান বাজারে এখন আর আগের মতো মাটির জিনিস পত্রের চাহিদা না থাকায় এর স্থান দখল করে নিয়েছে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাষ্টিকের তৈজসপত্র।

ফলে বিক্রেতারা মাটির জিনিসপত্র আগের মতো আগ্রহের সাথে নিচ্ছেনা। তাদের চাহিদা নির্ভর করে ক্রেতাদের ওপর। কিন্তু উপজেলার অঁজ পাড়াগাঁ পর্যন্ত এখন আর মাটির হাড়ি পাতিল তেমনটা চোখে পড়ে না। সে কারণে অনেক পুরোনো শিল্পিরাও পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে।

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাটির জিনিসপত্র তার পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। ফলে এ পেশায় যারা জড়িত এবং যাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মৃৎশিল্প তাদের জীবন যাপন একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দুঃখ কষ্টের মাঝে দিন কাটলেও আত্রাইয়ের মৃৎশিল্পীরা এখনও স্বপ্ন দেখেন।

কোন একদিন আবারও কদর বাড়বে মাটির পণ্যের। সেদিন হয়তো আবারো তাদের পরিবারে ফিরে আসবে সুখ-শান্তি। আর সেই সুদিনের অপেক্ষায় আজও দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। এ ব্যাপারে উপজেলার ভবানীপুর পালপাড়া গ্রামের আনন্দোপাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহে অনেক খরচ করতে হয় তাদের।

এ ছাড়াও জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে মিল না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এ ব্যাপারে সমাজকর্মী ও সাংবাদিক এমরান মাহমুদ প্রত্যয় মৃৎশিল্পের চলমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, মৃৎশিল্প আমাদের ঐতিহ্য, সরকার কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা প্রদান করে।

এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও এসব শিল্পে ঋণসুবিধা দিয়ে আসছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বেঁচে থাকুক সরকার তা চায়। এ বিষয়ে শাহাগোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস এম মামুনুর রশিদ বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্পকর্মে প্রশিক্ষিত করে মৃৎশিল্পের সমোপযোগী জিনিসপত্র তৈরিতে এবং বিদেশে এ পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এদিকে উপজেলার সচেতন মহল ও বিশিষ্টজনেরা মনেকরছেন মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এর বাজার সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর