1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আদমদীঘিতে জাতীয় যুব দিবস পালিত রাণীনগরে জাতীয় যুব দিবস পালিত আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন আদমদীঘিতে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নারীদের অংশ গ্রহনে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় রাস্তা দখল, উচ্ছেদ অভিযানে বাধা: সিটি কর্পোরেশনের কর্মীকে ছুরিকাঘাত, এক যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে আত্রাইয়ের নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন দুপচাঁচিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ এবারও শীর্ষে রাজশাহী থেকে বাড়ি ফেরা হলো না জয়া রানীর, ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষিকার উখিয়ার ইনানীতে মাটির গভীর থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, ২০০ মিটারে ১৪৪ ধারা জারি পাবনায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত অন্তত ৫

নওগাঁয় একই স্কিমে দুটি গভীর নলকূপ এক দশক পানি সেচের দ্বন্দ্বে চরম দুর্ভোগে হাজারো কৃষক

আব্দুর রউফ রিপন
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৭১ বার পঠিত

 

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের চিনোড়া মৌজায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) দুটি গভীর নলকূপ (এসটিডব্লিউ) প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় এক দশক ধরে চলমান বিরোধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো কৃষক।

 

একই এলাকায় দুটি সেচ প্রকল্প চালুর পর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। এর প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনে। সময়মতো সেচ না পাওয়ায় অনেক জমিতে ব্যাহত হচ্ছে ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদ। দ্রুত তদন্ত করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় হাজারো কৃষকরা।

 

বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চিনোড়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষিকে ঘিরেই। কিন্তু এই অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ পুরোপুরি নির্ভর করে বিএমডিএর গভীর নলকূপের সেচের ওপর। স্থানীয় বাসিন্দা মো. অলিউল্লাহ ২০০৯ সালে সব ধরনের সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চিনোড়া মৌজায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন এবং নিয়মিত সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

 

অপরদিকে তৎকালীন আ’লীগের খাদ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের প্রভাবে ২০১৯ সালে অবৈধ ভাবে একই এলাকায় বিদ্যমান সেচ স্কিমের নির্ধারিত দূরত্বের বিধিমালা অনুসরণ না করেই আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন একই গ্রামের সাধন বর্মন নামের আরেক ব্যক্তি।

 

তিনি পেশীবলের জোরে নলকূপটি তার বসতবাড়ির মধ্যে স্থাপন করে পাইপের মাধ্যমে মাঠের জমিতে সেচ দিয়ে আসছেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামনেই ইরি-বোরো ধান চাষের মৌসুম। সময়মতো সেচ নিশ্চিত না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে হাজারো কৃষক, কমে যেতে পারে কৃষি উৎপাদনও।

 

তাই নতুন মৌসুম শুরুর আগেই সরেজমিন তদন্ত করে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন সেচসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক রেজাউল করিম, আরিফুজ্জামানসহ অনেকেই বলেন, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন করে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিধিমালা অনুযায়ী বৈধ ও অবৈধ প্রকল্প যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দুই পক্ষের বিরোধের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের।

 

গত দশ বছর ধরে প্রয়োজন মাফিক পর্যাপ্ত সেচ না পাওয়ায় অনেক জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে, আবার কোথাও ব্যাহত হচ্ছে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন। স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত এই জটিল সমস্যার যথাযথ সমাধান কামনা করছে।

ভুক্তভোগী কৃষক মো. অলিউল্লাহ বলেন, এই বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা সেচ কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একপর্যায়ে নিজের সেচ কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

 

নিজের বসতবাড়িতে গভীর নলক’প স্থাপন করা এটি কোন বিধানে আছে। প্রশাসনের অবহেলার কারণে প্রায় দশবছর ধেও চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন এলাকার হাজারো কৃষক। দ্রুত বিষয়টির সুরাহার দাবি জানান তিনি।

অভিযুক্ত সাধন বর্মন বলেন, নিয়ম মেনেই নলকূপ স্থাপন করেছি। নিজের বাড়ির ভিতরে নলকূপ স্থাপন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) নিয়ামতপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. তারিক আজিজ বলেন, তৎকালীন সময়ে একই স্কিমে দুইটি গভীরনলক’প স্থাপন করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।

 

দ্রুতই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন সাপেক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত বৈধ সেচযন্ত্র রেখে অবৈধটি বন্ধ করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন সেচ সেবা নিশ্চিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, যদি কোনো সেচযন্ত্র বিধিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদন পেয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ পেয়েছি দ্রুতই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

 

বিডি /নিউজ /বাংলা২৪/ডটকম 
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর