নিজস্ব প্রতিবেদক : নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী এন আকন্দ কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসায় এক ছাত্রীর সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে প্রভাষক মো. এহসানুল হকের বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা কথিত আপত্তিকর ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এহসানুল হক মাদরাসার অনার্স শাখায় নন-এমপিও প্রভাষক হিসেবে প্রায় আট বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন জানান, গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক সিসিটিভি মনিটরে একটি কক্ষে এক শিক্ষক ও বোরকা পরিহিত এক নারীকে দেখতে পান।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা ফুটেজটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে এহসানুল হককে ডেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে অভিযুক্ত শিক্ষক বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান। পরে ২৬ আগস্ট ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ অধ্যক্ষকে দেখানো হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি অনার্স বিভাগের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদরাসায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করে তাকে মাদরাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর এহসানুল হক পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে মাদরাসার শিক্ষকমণ্ডলীর জরুরি সভায় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ জানান, বিষয়টি মাদরাসার গভর্নিং বডি এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি অনার্স বা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী হতে পারেন। সামাজিক ও পারিবারিক কারণে ওই ছাত্রী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানার পরও ছাত্রীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষককে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি না করে চাকরি থেকে বিদায় দেওয়াটা দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনানুগ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা প্রয়োজন।