নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের যেসব এলাকায় ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির রাজনীতি করে একটি দল নির্বাচিত হয়েছে, সেসব এলাকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় তাদের কর্মীরা কৃত্রিমভাবে সার সংকট তৈরি করছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তার অভিযোগ, বিএনপির কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে বিরোধী দল বাইরের দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাকে রংপুর ও বাংলাদেশের সম্পদ এবং গণঅভ্যুত্থানের বীর হিসেবে উল্লেখ করেন। শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ, তার বাবা-মায়ের জন্য স্থায়ী বাসগৃহ নির্মাণ এবং কবরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ‘শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন’-এ এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম শহীদ আবু সাঈদের নামে করার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পীরগঞ্জসহ দীর্ঘদিন অবহেলিত এলাকাগুলোকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। কে নির্বাচিত হয়েছেন আর কে হননি সেটি বিবেচনা না করে সব নাগরিকের জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এমনকি রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও এ সুবিধার আওতায় থাকবেন বলে তিনি জানান। একই সময়ের মধ্যে কৃষকদের কাছেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ওই সরকার দেশের মৌলিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি সংকটপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্যাসের সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা আগের সময়ের বলে দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের কাজ মূল্যায়নের আগে চার বছর সময় দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানি তেলের দাম নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। অতীতে ভারতে তেল পাচারের কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও তেলের দাম কমানো হবে।
এরপর পীরগঞ্জের তিনটি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মীর শাহে আলম। পীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, পীরগঞ্জ কছিমুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পীরগঞ্জ আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। মতবিনিময়ে তিনি বলেন, একজন নারী শিক্ষিত হলে শুধু একটি পরিবার নয়, একটি প্রজন্ম শিক্ষিত হয়। নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
দূরদূরান্ত থেকে যেসব ছাত্রী নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে, তাদের তালিকা তৈরি করে সরকারি উদ্যোগে বাইসাইকেল দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নারী শিক্ষার প্রসারে নতুন বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানান। শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরবর্তী কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা।
শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী পীরগঞ্জের বড়দরগাহ বাজার থেকে ভেন্ডাবাড়ি জিসি সড়কের উন্নয়নকাজও পরিদর্শন করেন। তার সফরসূচি অনুযায়ী, পরে পীরগঞ্জে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন তিনি।