রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ায় মো. রিপন মুরমু (২৬) নামের এক ইটভাটা শ্রমিক হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মো. এনামুল হককে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১২ (এসআরবি-১২)। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বগুড়া সদর উপজেলার লতিফপুর কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া এনামুল হক মামলার এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি। সোমবার (১২ অক্টোবর) এসআরবি-১২-এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানি (সিপিএসসি), বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিপন মুরমু দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলওয়া গ্রামের মোসেশ মুরমুর ছেলে। তিনি গত ৫-৬ বছর ধরে বগুড়া সদর উপজেলার চন্ডিহারা গ্রামের আক্তার রহমান ডিউকের ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। গত ৯ অক্টোবর রাতে বগুড়া সদর উপজেলার চাঁনপাড়া এলাকায় আলোর মেলা স্কুলের পাশে রেজাউল করিমের একটি গ্রিল ও লোহাজাত পণ্যের দোকান থেকে ঝালাই মেশিন চুরি হয়। এ ঘটনায় সন্দেহের বশে পরদিন ১০ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে রিপনকে ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করা হয় এবং তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে আসামিরা রিপনের খালাকে ডেকে জানান, সন্ধ্যার মধ্যে ২০ হাজার টাকা বা চুরি যাওয়া মেশিন ফেরত দিতে হবে। ঘটনার পর রিপন তাঁর খালাকে ফোন করে তাঁর শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ বলে জানান। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইটভাটার ম্যানেজার মো. মামুন মিয়া শ্রমিকদের থাকার ঘর থেকে রিপনের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোসেশ মুরমু বাদী হয়ে গত ১১ অক্টোবর বগুড়া সদর থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৩৯) দায়ের করেন।
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে এসআরবি-১২। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংস্থাটির একটি আভিযানিক দল জানতে পারে আসামি এনামুল লতিফপুর কলোনি এলাকায় সাজেদা আর্জু নামের এক নারীর ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে রোববার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত এনামুল হককে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১২।