অরবিন্দ কুমার দাস, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: বর্ষার রিমঝিম নূপুরের ধ্বনি শেষে, বাংলার বুকে পা রেখেছে ঋতু রাণী শরৎ। শরতের শে^ত শুভ্র আকাশে ডানা মেলেছে তুলার মতো সাদা মেঘের ভেলা, আর বাতাসে ভেসে বেড়ানো শিউলি ফুলের মন মাতানো সুবাসে এখন মুখরিত চারদিক। ইট পাথরের যান্ত্রিক নগরী ছাড়িয়ে গ্রামীণ জনপদে এখন যেন শুভ্রতার মেলা। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা এর ব্যতীক্রম নয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিউলি ফুলের সুবাসে মুগ্ধ সবাই।
ভোরের নরম আলোয় শরতের সকাল মানেই এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা। রাতের আঁধারে ফোঁটা শিউলি ফুল যখন ভোরের আলো ফুটতেই ঝরে পড়ে সবুজ ঘাসের বুকে, তখন তৈরি হয় সাদা আর কমলার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। নদীর ধারে কাশফুলের দোলা, জলাশয়ে পদ্ম-শালুকের মেলা, আর মিষ্টি ভোরের শিশির বিন্দু সব মিলিয়ে প্রকৃতি সেজেছে এক শুভ্র সাজে। শুধু প্রকৃতি নয়, শরতের এই স্নিগ্ধতা ছুঁয়ে যাচ্ছে প্রতিটি মানুষের মনকে। শিউলির সুবাস যেন বয়ে নিয়ে আসছে এক হারিয়ে যাওয়া শৈশব, পুরনো স্মৃতি আর উৎসবের আগাম বার্তা।
শিউলি ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম ঘুপঃধহঃযবং ধৎনড়ৎ-ঃৎরংঃরং. শিউলি ফুলের ইরেজি নাম-ঘরমযঃ-ভষড়বিৎরহম লধংসরহব বা ঞৎববড়ভংড়ৎৎড়.ি এ ফুলকে শেফালি, শেফালিকা ও পারিজাত ফুল নামেও অভিহিত করা হয়। দুপচাঁচিয়া উপজেলার খাড়িয়া নিশিন্দারা মহল্লার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক অশ্বি কুমার পাল জানান, শিউলি ফুল ও গাছের পাতা ভেষজগুণ সম্পন্ন। এর পাতা, বীজ এবং ছাল প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদিক ও লোকজ চিকিৎসায় ভেষজ ও ঔষুধি গুণের অধিকারী হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
দুপচাঁচিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুদেব কুণ্ডু বলেন, ভোরে যখন ঘুম থেকে উঠি, তখন শিউলি ফুলের এ মিষ্টি গন্ধটা মনকে একদম সতেজ করে দেয়। নীল আকাশে সাদা মেঘের ওড়াউড়ি দেখতে সত্যিই খুব ভাল লাগে। কাহালু সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নাজমুন আক্তার বাবলী জানান, বাংলা সাহিত্যে শরতের স্নিগ্ধতা আর শিউলি ফুল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শিউলি ফুলের রূপ, সুবাস এবং ভোরের আলো ফোঁটার আগেই ঝরে যাওয়ার বিষাদময় সৌন্দর্য নিয়ে কবি সাহিত্যিকরা অসাধারণ সব পঙতি মালা রচনা করেছেন। যা পাঠক সমাজে সমাদৃত। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও নগরায়নের ফলে আগের মতো শিউলি তলার সেই চিরচেনা রূপ এখন আর অত সহজে চোখে পড়ে না। তবুও যেখানে একটু খানি সবুজ কিংবা কোনো শিউলি গাছে অস্তিত্ব রয়েছে সেখানেই শরৎ তার চিরায়ত রূপে সুধা বিলিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।