1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন আদমদীঘিতে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নারীদের অংশ গ্রহনে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় রাস্তা দখল, উচ্ছেদ অভিযানে বাধা: সিটি কর্পোরেশনের কর্মীকে ছুরিকাঘাত, এক যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে আত্রাইয়ের নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন দুপচাঁচিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ এবারও শীর্ষে রাজশাহী থেকে বাড়ি ফেরা হলো না জয়া রানীর, ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষিকার উখিয়ার ইনানীতে মাটির গভীর থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, ২০০ মিটারে ১৪৪ ধারা জারি পাবনায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত অন্তত ৫ গোপনে বাল্যবিয়ে, পরে ধুমধাম আয়োজন আদমদীঘিতে রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা প্রতিকার করবে কে সনাতন ধর্মালম্বীদের দামোদর মাস উপলক্ষে দুপচাঁচিয়ায় মাস ব্যাপী নগর কীর্তন শুরু

বগুড়ায় গঠিত হচ্ছে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চূড়ান্ত পর্যায়ে আইনের খসড়া

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ১০১ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার বগুড়া:

বগুড়া শহর ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে পরিকল্পিত, আধুনিক এবং টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত আইনে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এলাকা এবং সরকার নির্ধারিত আশপাশের অঞ্চলগুলোকে নতুন কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বগুড়াকে দেশের নতুন সিটি কর্পোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন পায় এবং ১৪ মে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বগুড়া দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, দুর্যোগ-সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন খাতের বিকাশ এবং নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পৃথক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আইন কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করবে। আইন কার্যকর হওয়ার পর ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হবে, যা নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত আইনে একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে সরকারের প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত চারজন সদস্য ছাড়াও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং একজন নির্বাহী পরিচালক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নির্বাহী পরিচালক সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা অথবা সরকারের মনোনীত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পূর্ণকালীন সদস্যদের নিয়োগও সরকার প্রদান করবে।

খসড়া অনুযায়ী, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগর পরিকল্পনা, উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতা পাবে। মহাপরিকল্পনা, কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন থেকে শুরু করে ভূমি জরিপ, গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এ ছাড়া ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ, ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রদান, নির্মাণ কার্যক্রম তদারকি, ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আবাসন খাতে অনিয়ম প্রতিরোধের ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে।

সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, জনসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সমন্বয় সাধন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করাও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা, জলাশয়, কৃষিজমি, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান এবং উদ্যান সংরক্ষণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে নগর এলাকায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, বনায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নাগরিকদের জন্য বিনোদন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণের কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।মহাপরিকল্পনায় নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ভূমি ব্যবহার করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নিচু জমি ভরাট, প্রাকৃতিক জলাধারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা কিংবা নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে প্রথমবারের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে দুই থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। অন্যদিকে অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আদলে বগুড়ায় পৃথক সংস্থা গঠিত হলে নগর সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং অপরিকল্পিত নগর বিস্তার নিয়ন্ত্রণেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে আইনের খসড়া সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর