অরবিন্দ কুমার দাস, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় বিশেষ করে বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীর লোকেরা ২১ অক্টোবর বুধবার স্যাঁত উৎসব পালন করেছেন। এ উপলক্ষে বিজয়া দশমীর দিন সকালে প্রতিটি বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীর পরিবারের পুরুষ মানুষ ¯øান সেড়ে ধুতি পরে এ উৎসবটি পালন করেন। এদিন বাড়ির গৃহিনীরা সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত চালন, কুলা, দাঁড়িপাল্লা, বটি, কোদাল সহ আনুষাঙ্গিক সরঞ্জামাদী জল দিয়ে ধুয়ে আঙ্গিনা বা তুলশী তলায় রাখেন। তারপর তাতে চন্দন ও সিঁদুরের ফোটা দেন।
সেই সঙ্গে আঞ্চলিক প্রথা অনুসারে ২-৩টি পুঁটির মাছে সিঁদুরের ফোটা দিয়ে জলসহ একটি পাত্রে রাখা হয়। পরে আগামী দিনগুলো যেন সুখে শান্তিতে কাটে এই কামনায় সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করে পূজা করা হয়। পূজা শেষে কাচি (কাস্তে) দিয়ে তুলশী গাছের চারপাশে আড়াইপাক দাগ দেওয়া হয়। সেই সাথে পুঁটি মাছগুলো জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকে। আঞ্চলিক ভাষায় এটিকে স্যাঁত উৎসব বলা হয়।
উপজেলার ফেঁপিড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি প্রাক্তন প্রাথমিক শিক্ষক বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এটি বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীর একটি ঐতিহ্য। তাঁর বাব-দাদারা বিজয়া দশমীর দিন সকালে এভাবে স্যাঁত উৎসব পালন করতেন। এটি মূলত প্রতিটি পরিবারের জন্য শুভকামনা করে সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা। যে ব্যক্তি যে পেশায় সংসার চালান তার আনুষাঙ্গিক সামগ্রী তুলশী তলায় রেখে পূজা করা হয়। যাতে আগামী দিনগুলো স্বস্ব পেশায় থাকা ব্যক্তিরা উপার্জন করে শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে।