নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই শিশুর পেটে ইয়াবার প্যাকেট ঢুকিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পাচারের সময় এক নারীসহ দুই শিশুকে আটক করেছে র‌্যাব। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দুই শিশুর পেট থেকে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, শিশুদের পরিবারের খরচ বহনের পাশাপাশি আট হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র তাদের এ কাজে ব্যবহার করছিল।

আরও পড়ুন 

নওগাঁয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ক্যাম্পের লে. কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম সোমবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ব্যবহার করে মাদক পাচার করে আসছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নজরদারিতে রাখছিল র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট এলাকায় একটি তল্লাশিচৌকি বসানো হয়।

এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে শারমিন আক্তার নামে এক নারীসহ দুই শিশুকে আটক করা হয়। আটক শারমিনের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ায়। শিশু দুটির বয়স যথাক্রমে ৯ ও ১২ বছর এবং তাদের বাড়ি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়। র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন আক্তার দুই শিশুর পেটে করে ইয়াবা বহনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে শিশু দুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা তাদের পেটে ইয়াবার প্যাকেট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরবর্তীতে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মলত্যাগের মাধ্যমে শিশু দুটির পেট থেকে ইয়াবার প্যাকেটগুলো বের করা হয়। এর মধ্যে ৯ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা বড়ি ছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব কর্মকর্তা তাওহীদুল ইসলাম বলেন, শিশুদের পরিবারের খরচ বহনের পাশাপাশি আট হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি তাদের মাদক পাচারে ব্যবহার করছিল। সন্দেহ এড়াতে শিশুদের সঙ্গে শারমিন আক্তারকে রাখা হয়েছিল।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, পেটের ভেতরে এভাবে ইয়াবা বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে শিশু দুটির প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাদক পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। একই সঙ্গে শিশুদের মাদক পাচারের মতো ভয়ংকর অপরাধে ব্যবহার রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম