স্টাফ রিপোর্টার :
বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি স্বার্থজড়িত থাকা জমির খাজনা রশিদ অবৈধ উপায়ে ভুয়া ও জালিয়াতি করা ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মনসুর আলম বাবু (৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১৬জুন) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মনসুর আলম বাবু সান্তাহার নতুন বাজার এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।
অপর আসামীরা হলো, উপজেলার মালশন গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে সাদেকুল ইসলাম সাদ্দাম (৪৫) ও সান্তাহার রথবাড়ির মকবুল হোসেনের ছেলে আজমল হোসেন মলো (৪৭)। গত ১৬ জুন আদমদীঘি থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন সান্তাহার ‘খ’ পৌর ভুমি অফিসের সহকারি ভুমি কর্মকর্তা এসএম ফরহাদ হোসেন।
মামলা সুত্রে জানাযায়, আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার নুতন বাজার এলাকার রঞ্জু মিয়া নামের ওই ব্যক্তি অপর আসামীদের যোগসাজশে উপজেলার বশিপুর মৌজার সরকরি স্বার্থ জড়িত সাবেক ১৭৩০ হাল ৩৬১০ দাগের দেড় শতক জমির খাজনা (দাখিলা) একটি চক্র অবৈধ ভাবে ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়াই ভুয়া জাল ভুমি উন্নয়ন কর (দাখিলা) বের করেন।
ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য গত ২৫ সালের ২৮ মে মাসে খাজনা পরিশোধের জন্য আবেদন করলে উক্ত সম্পত্তিটি সরকারী স্বার্থজড়িত থাকায় ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা সেই আবেদন টি বাতিল করে হোল্ডিংয়ের খাজনা পরিশোধ স্থগিত রাখেন।
এদিকে পুনরায় উক্ত সম্পত্তির খাজনা পরিশোধের জন গত ১৫ জুন অনলাইনে আবেদন করান পর কৌশলে খাজনা পরিশোধ করে দাখিলা বের করে সেই দাখিলায় ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থ বছরের খাজনা পরিশোধ দেখানো হয়।
খাজনার রশিদে চলতি অর্থবছর না থাকায় তা সংশোধনের জন্য গত ১৫ জুন আসামী আজমল হোসেন মলো ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার নিকট গেলে উক্ত ভুমি উন্নয়ন করের রশিদ দেখে সন্দেহ হলে যাচাই বাচাই করে দেখেন এই ভুমি উন্নয়ন কর (দাখিলা) অবৈধভাবে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে বলে ধরা পড়ে।
এঘটনায় সান্তাহার (খ) ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা এসএম ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে জমির মালিক সহ উল্লেখিত তিন জনের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ মনসুর আলম বাবুকে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়া আদালতের ওয়ারেন্টমুলে জিআর মামলায় উপজেলার দড়িয়াপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম রঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া মামলা দায়ের নিশ্চিত করে বলেন গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।