হাফিজার রহমান, স্টাফ রিপোর্টার বগুড়া : বগুড়ার আদমদীঘিতে গত দুই দিনের বৃষ্টিপাতে রোপা আমন ধানের বীজতলা, কাঁচা মরিচ গাছ, শাক-সবজি আবাদ পানির নীচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরের সহকারি কমিশনার (ভুমি), খাদ্যগুদাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, শিক্ষা অফিস, হাই স্কুল মাঠসহ কয়েকটি অফিসের সামনে জলাবদ্ধতার কারনে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন ভুক্তিভোগিরা।
জরুরী ভিক্তিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে পর্যবেক্ষন মহল মনে করেন।
আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারনে উপজেলা রোপা আমনের বীজতলা, শতশত বিঘা মরিচের আবাদ, শাক-সবজির আবাদ প্রায় পানির নীচে তলিয়ে নষ্ট হতে যাচ্ছে।
বিশেষ করে রোপা আমন ধানের বীজ তলা, কাঁচা মরিচের গাছে পচন ধরতে শুরু করেছে। মরিচ চাষীরা আবাদের জমি থেকে পানি সেচ দিয়েও কুলাতে পারছেনা। ফলে মরিচের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। শাক-সবজির আবাদেরও একই অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বীজতলা ডুবে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা তেঁতুলিয়া, শিবপুর, উজ্জলতা, কোমারপুর, কাশিমালকুড়ি, সালগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা রোপা আমন ধান বীজ, কাঁচা মরিচ, শাক-সবজির প্রচুর আবাদ করেছেন। গরম মৌসুমে এসব আবাদ চাষ করেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে এসব জমিতে পানি জমে আবাদ প্রায় পানির নীচে তলিয়ে নষ্ট হতে যাচ্ছে।
এভাবে বৃষ্টিপাত হতে থাকলে সব আবাদই নষ্ট হবে বলে কৃষকরা মনে করছেন। কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, এবার প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ, প্রায় ৪শ হেক্টর জমিতে শাব-সবজি ও রোপা আমন ধান লাগানোর জন্য বিপুল পরিমান জমিতে ধান বীজ ফেলানো হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের কারনে জমিতে কৃষকদের লাগানো আবাদ প্রায় পানি নীচে তলিয়ে নষ্ট হতে যাচ্ছে।
এছাড়া আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরে পানি নিস্কাশনের জন্য কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সহকারি কমিশনার (ভুমি), খাদ্যগুদাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, শিক্ষা অফিস, হাই স্কুল মাঠসহ কয়েকটি অফিসের সামনে জলাবদ্ধতার কারনে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসপাড়ার লোকজন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ শিক্ষার্থিরা।
তবে উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলে কৃষক জহুরুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান, মমতাজ উদ্দিনসহ অনেকই জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম জানান, বৃষ্টিপাত কমলে অল্প সময়ে জমি থেকে পানি নেমে গেলে আবাদের তেমন ক্ষতির আশংকা থাকবেনা।