হাফিজার রহমান, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি :
বগুড়ার আদমদীঘিতে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্বেও বিবাদমান জমি প্রায় ৬০ বছর যাবত দখলে থাকা এবং জমিতে লাগানো ধান অপরপক্ষ জোড়পূর্বক কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবশিষ্ট জমির ধান কাটতে পারেনি প্রকিপক্ষরা। এ ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (৮জুন) সকালে আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর ইউপির প্রত্যন্ত অঞ্চল ভেনলা হিন্দুপাড়ার মাঠে। এ ব্যাপারে আদমদীঘি থানায় ভেনলা গ্রামের শ্রী পরিমল বর্মন বাদি হয়ে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ শ্রী ব্রজেন্দ্র বর্মনসহ ৮জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বাদির অভিযোগে বলা হয়, আদমদীঘি উপজেলা ভেনলা গ্রামের বাদি শ্রী পরিমল বর্মনের পৈত্রিক দাদার প্রায় ২২ বিঘা সম্পত্তি ৬০ বছর যাবত জমির খাজনা খারিজমুলে নিজ দখলীয় ভাবে জমিতে চাষ আবাদ করে ভোগ দখল করে আসছে। সম্প্রতি একই গ্রামের প্রতিপক্ষ শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ বর্মন ও তার শরিকরাও উল্লেখিত জমির ওয়ারিশ দাবী করে আদালতে মোকদ্দমা করলে উভয়ের মধ্যে মামলায় মোকাবেলা চলে। বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এদিকে অভিযোগের বাদি শ্রী পরিমল বর্মন তার দখলীয় জমিতে চলতি মৌসুমে ইরি ধান চাষ করেন। ধান পেকে কাটার উপক্রম হয়েছে। গত সোমবার সকালে প্রতিপক্ষরা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন লোক লাগিয়ে ওই বিবাদমান ২২ বিঘা জমির মধ্যে প্রায় ৩ বিঘা জমির ধান জোড়পুর্বক কেটে নেয়। এসময় বাঁধা দিতে গেলে তাদের নানা হুমকি দেয়া হয়।
পরে জাতীয় ৯৯৯ নম্বরে ফোন ও আদমদীঘি থানায় অভিযোগ করায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধান কাটা বন্ধ করে দিয়ে উভয় পক্ষকে আদালতের নথিপত্র সহ থানায় আসতে বলেন। প্রতিপক্ষ শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ বর্মন জানায়, তার নানা চৈতন্য বর্মনের মেয়ে তার মা নিয়তি রানীর ওয়ারিশ সুত্রে ওই ২২ বিঘা জমি আমাদের বলে দাবী করেন। এজন্য জমি থেকে ধান কেটে নেয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তকারি আমদীঘি থানার উপ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, ধান কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। যেহেতু উচ্চ আদালতে মামলা চলমান। সে কারনে আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত বিবাদমান ওই জমি নিয়ে কোন পক্ষই কার্যক্রম বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য বলা হয়েছে।