1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আদমদীঘিতে নারীসহ ৪জন গ্রেফতার গণেশ মূর্তি উদ্ধার ৭ দফা দাবী আদায়ে জেলা সমাবেশ সফল করতে আদমদীঘি দলিল লেখকদের প্রস্তুতিমুলক সভা দুপচাঁচিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাত গ্রেপ্তার আত্রাইয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করণের শুভ উদ্বোধন লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দুপচাঁচিয়ায় প্রধান শিক্ষক নূর ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নয় বছর পর এসিডদগ্ধ গৃহবধূ আমেনার মৃত্যু, প্রধান আসামি গ্রেফতারের দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন বগুড়ার সোনাতলায় অটোরিকশাচালক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

গিয়ে ছিলাম নওগাঁর কুসুম্বা মসজিদে সুলতানি আমলের কালাপাহাড়ের অজানা ইতিহাস

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৬৫ বার পঠিত
৮৫

 

​বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের গৌরবময় মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে এক অনন্য ও জীবন্ত সাক্ষী নওগাঁর ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ। পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি তার পাথুরে কারুকাজ আর দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোর জন্য স্থানীয়ভাবে কালাপাহাড় বা কালা রত্ন নামে পরিচিত।

 

 

 

প্রায় পৌনে পাঁচশ বছর ধরে সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মসজিদের স্থাপত্যশৈলী এবং এর ভেতরের ও বাইরের ইতিহাস আজো পর্যটক ও ইতিহাসবিদদের সমানভাবে মুগ্ধ করে।৫ টাকার নোটে যার ছবি ফিরে দেখা সেই ইতিহাস ইতিহাস ও মসজিদের প্রবেশদ্বারে থাকা আরবি শিলালিপি অনুযায়ী হিজরি ৯৬৬ সন অর্থাৎ ১৫৫৮-১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে আফগান শূর বংশের শেষ দিকের শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের রাজত্বকালে মসজিদটি নির্মিত হয়।

 

 

 

সুলতানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আমির সোলায়মান মতান্তরে সবর খান এই চমৎকার ইমারতটি নির্মাণ করেন। উত্তর ভারতের আফগান স্থাপত্যের চেয়ে এতে বাংলার নিজস্ব সুলতানি স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট।​১৮৯৭ সালের এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে এর গম্বুজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি সংস্কার করে।

 


কুসুম্বা মসজিদের ভেতরে উত্তর-পশ্চিম কোণে পাথরের স্তম্ভ এবং সিঁড়ির ওপর একটি উঁচু ঘর বা প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষিত করে।ইতিহাসবিদদের মতে এটি মূলত দুটি বিশেষ কারণে নির্মিত হয়েছিল
বাদশাহ কা তখত (রাজকীয় আসন) তৎকালীন সময়ে শাসক আমির বা স্থানীয় কাজী বিচারক-রা সাধারণ মুসল্লিদের থেকে আলাদা হয়ে নিরাপত্তার সাথে এখানে নামাজ আদায় করতেন।

 

 

 

অনেক সময় এখান থেকে রাজকীয় ফরমান বা গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কাজও পরিচালনা করা হতো।অনেকে মনে করেন, সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারীরা যেন পূর্ণ পর্দার সাথে নামাজ আদায় করতে পারেন,সেজন্যই এই উঁচু দোতলা গ্যালারিটি তৈরি করা হয়েছিল।

 

 

মসজিদের ঠিক সামনেই রয়েছে চোখ জুড়ানো এক বিশাল দিঘি। মসজিদ নির্মাণের সময়ই এর নির্মাতা সোলায়মান মুসল্লিদের অজু-গোসল এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করতে এটি খনন করেন। পাড়সহ প্রায় ৭৭ বিঘা বা শত বছর পার হলেও দিঘির স্বচ্ছ জলধারা আজো দর্শনার্থীদের প্রাণ জুড়ায়।

 


​নওগাঁর মান্দা উপজেলায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশেই এই ঐতিহাসিক মসজিদের অবস্থান।যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত হওয়ায় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই এখানে আসা যায় নওগাঁ জেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। রাজশাহী থেকে উত্তর দিকে এর দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। নাটোর বা রাজশাহী হয়ে সড়কপথে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব।ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব প্রায় ২৭০ থেকে ২৮৫ কিলোমিটার।​

 

 

ঐতিহাসিক এই স্থাপত্যটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে রয়েছে,যা প্রতিদিন দেশি বিদেশি শত শত. পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর