1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আদমদীঘিতে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নারীদের অংশ গ্রহনে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় রাস্তা দখল, উচ্ছেদ অভিযানে বাধা: সিটি কর্পোরেশনের কর্মীকে ছুরিকাঘাত, এক যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে আত্রাইয়ের নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন দুপচাঁচিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ এবারও শীর্ষে রাজশাহী থেকে বাড়ি ফেরা হলো না জয়া রানীর, ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষিকার উখিয়ার ইনানীতে মাটির গভীর থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, ২০০ মিটারে ১৪৪ ধারা জারি পাবনায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত অন্তত ৫ গোপনে বাল্যবিয়ে, পরে ধুমধাম আয়োজন আদমদীঘিতে রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা প্রতিকার করবে কে সনাতন ধর্মালম্বীদের দামোদর মাস উপলক্ষে দুপচাঁচিয়ায় মাস ব্যাপী নগর কীর্তন শুরু ধুনটে শ্বাসরোধে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী আটক

গিয়ে ছিলাম নওগাঁর কুসুম্বা মসজিদে সুলতানি আমলের কালাপাহাড়ের অজানা ইতিহাস

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৯২ বার পঠিত

 

​বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের গৌরবময় মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে এক অনন্য ও জীবন্ত সাক্ষী নওগাঁর ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ। পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি তার পাথুরে কারুকাজ আর দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোর জন্য স্থানীয়ভাবে কালাপাহাড় বা কালা রত্ন নামে পরিচিত।

 

 

 

প্রায় পৌনে পাঁচশ বছর ধরে সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মসজিদের স্থাপত্যশৈলী এবং এর ভেতরের ও বাইরের ইতিহাস আজো পর্যটক ও ইতিহাসবিদদের সমানভাবে মুগ্ধ করে।৫ টাকার নোটে যার ছবি ফিরে দেখা সেই ইতিহাস ইতিহাস ও মসজিদের প্রবেশদ্বারে থাকা আরবি শিলালিপি অনুযায়ী হিজরি ৯৬৬ সন অর্থাৎ ১৫৫৮-১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে আফগান শূর বংশের শেষ দিকের শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের রাজত্বকালে মসজিদটি নির্মিত হয়।

 

 

 

সুলতানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আমির সোলায়মান মতান্তরে সবর খান এই চমৎকার ইমারতটি নির্মাণ করেন। উত্তর ভারতের আফগান স্থাপত্যের চেয়ে এতে বাংলার নিজস্ব সুলতানি স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট।​১৮৯৭ সালের এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে এর গম্বুজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি সংস্কার করে।

 

​
​

কুসুম্বা মসজিদের ভেতরে উত্তর-পশ্চিম কোণে পাথরের স্তম্ভ এবং সিঁড়ির ওপর একটি উঁচু ঘর বা প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষিত করে।ইতিহাসবিদদের মতে এটি মূলত দুটি বিশেষ কারণে নির্মিত হয়েছিল
বাদশাহ কা তখত (রাজকীয় আসন) তৎকালীন সময়ে শাসক আমির বা স্থানীয় কাজী বিচারক-রা সাধারণ মুসল্লিদের থেকে আলাদা হয়ে নিরাপত্তার সাথে এখানে নামাজ আদায় করতেন।

 

 

 

অনেক সময় এখান থেকে রাজকীয় ফরমান বা গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কাজও পরিচালনা করা হতো।অনেকে মনে করেন, সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারীরা যেন পূর্ণ পর্দার সাথে নামাজ আদায় করতে পারেন,সেজন্যই এই উঁচু দোতলা গ্যালারিটি তৈরি করা হয়েছিল।

 

 

​

মসজিদের ঠিক সামনেই রয়েছে চোখ জুড়ানো এক বিশাল দিঘি। মসজিদ নির্মাণের সময়ই এর নির্মাতা সোলায়মান মুসল্লিদের অজু-গোসল এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করতে এটি খনন করেন। পাড়সহ প্রায় ৭৭ বিঘা বা শত বছর পার হলেও দিঘির স্বচ্ছ জলধারা আজো দর্শনার্থীদের প্রাণ জুড়ায়।

 

​
​নওগাঁর মান্দা উপজেলায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশেই এই ঐতিহাসিক মসজিদের অবস্থান।যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত হওয়ায় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই এখানে আসা যায় নওগাঁ জেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। রাজশাহী থেকে উত্তর দিকে এর দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। নাটোর বা রাজশাহী হয়ে সড়কপথে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব।ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব প্রায় ২৭০ থেকে ২৮৫ কিলোমিটার।​

 

 

ঐতিহাসিক এই স্থাপত্যটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে রয়েছে,যা প্রতিদিন দেশি বিদেশি শত শত. পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর