অনলাইন সংরক্ষণ : ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান। তিনি বলেন, “দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে।
তবুও আমাকে যেতেই হবে। যদি মৃত্যুও আসে, আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতেই হোক যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন এবং যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে। শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা দেওয়া হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি সবাইকে বলেছি, আমি দেশে ফিরছি। আপনারাও ফিরে আসুন। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করব এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের সুযোগ সৃষ্টি করব।
তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি। তবে বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত আনতে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “আমাকে দেশে ফেরাতে তারা ভারতকে বারবার চিঠি দিচ্ছে। তবে আমি নিজেই দেশে ফিরব।
দেশে ফিরে ঠিক কোন আদালতে বা কোন তারিখে আত্মসমর্পণ করবেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থার ওপর তার আস্থা রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চান।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাকে সাজা দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? আমরা যদি কোনো ভুল করে থাকি, তার বিচার জনগণই করবে।
দল পুনর্গঠনের বিষয়ে শেখ হাসিনা জানান, ইতোমধ্যে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন। তিনি দাবি করেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে এর আগে তারা জানিয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অনুরোধ পর্যালোচনায় রয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী ভারত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে এই প্রথম তিনি দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের কথা উল্লেখ করেন এবং দলের নেতাদের নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানান।