1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবী আদায়ে জেলা সমাবেশ সফল করতে আদমদীঘি দলিল লেখকদের প্রস্তুতিমুলক সভা দুপচাঁচিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাত গ্রেপ্তার আত্রাইয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করণের শুভ উদ্বোধন লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দুপচাঁচিয়ায় প্রধান শিক্ষক নূর ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নয় বছর পর এসিডদগ্ধ গৃহবধূ আমেনার মৃত্যু, প্রধান আসামি গ্রেফতারের দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন বগুড়ার সোনাতলায় অটোরিকশাচালক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার নিয়ামতপুরে ৫৫০ লিটার চোলাইমদসহ গ্রেপ্তার ৩

নওগাঁয় সবজির হাটে ওজন ও খাজনা আদায়ে জুলুমের শিকার কৃষকরা

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৮১ বার পঠিত
৭৬

 

আব্দুর রিপন রউফ, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: 

নওগাঁর হাটগুলোতে ইজারাদার ও ব্যাপারিদের (ব্যবসায়ী) সিন্ডিকেট এবং জুলুমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ধলতা বা শুকনা এমন নানা অজুহাতে প্রতি মণ সবজি ও আমে দুই থেকে আট কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ওজন নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে, সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক কৃষকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে খাজনা আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ওজনে অনিয়ম বন্ধে একটি কঠোর পরিপত্র জারি করা হলেও, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সরকারি নির্দেশনা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ

সরেজমিনে সবজিভান্ডার ও জিআই সনদপ্রাপ্ত নাকফজলি’ আমের জন্য খ্যাত বদলগাছী উপজেলা সদরের প্রধান হাটে গিয়ে দেখা যায় চরম অনিয়ম। সপ্তাহে শনি ও বুধবার বসা এই  হাটে কোটি টাকার সবজি বেচাকেনা হয়। কিন্তু কৃষকরা হাটে ঢোকা  হাট ঝাড়ুদার বা তোলার নামে শুরুতেই প্রতি মণে ১ কেজি সবজি কেটে নেওয়া হয়।ওজনে কারচুপি: দরদাম শেষে বিক্রির সময় ধলতার নামে ৪০ কেজির মণের পরিবর্তে ৪২ থেকে ৪৩ কেজিতে মণ হিসাব করা হয় (প্রতি মণে ২-৩ কেজি বেশি)।

নিয়ম না থাকলেও কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে পটল ও আলু প্রতি মণ ২০ টাকা এবং মরিচসহ অন্যান্য সবজি প্রতি মণ ৪০ টাকা হারে খাজনা কাটা হচ্ছে।

বদলগাছী উপজেলার কোলা, ভান্ডারপুর, চাঁদপুর ও বদলগাছী-এই চারটি প্রধান সবজি হাট বর্তমানে টেন্ডার না হওয়ায় সরকারি তত্ত্বাবধানে খাস আদায় হচ্ছে। কিন্তু সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা এই হাটগুলোতেও প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে এই প্রকাশ্য লুটপাট।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুলের নির্বাচনী ইস্তেহার ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গত ২৭ এপ্রিল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে সারাদেশে ওজনে অনিয়ম বন্ধে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে কোনো অছিলাতেই মণে ৪০ কেজির বেশি নেওয়া যাবে না। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তদারকি না থাকায় পরিপত্রটি আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে হাটে প্রতিনিয়ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হট্টগোল ও মারামারি ঘটছে।

চকনরেসিং গ্রামের কৃষক সাহানুর ইসলাম বলেন আমাদের এমপি ফজলে হুদা বাবুল অনেক চেষ্টা করে কৃষি অধিদপ্তর থেকে পরিপত্র জারি করিয়েছেন, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ। কিন্তু হাটে এর কোনো বাস্তব প্রয়োগ নেই। ব্যবসায়ীরা জোর করে মণে ৩-৪ কেজি সবজি বেশি নিচ্ছে, আবার অবৈধভাবে খাজনাও কাটছে। আমরা পরিপত্র শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে দেখতে চাই এবং অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সবজি ব্যবসায়ী ওয়ারেজ বাবু বলেন সবজি ভেজা থাকলে শুকিয়ে ওজন কমে যায় তাই সামান্য ধলতা নিতে হয়। আর খাজনার টাকা আমরা পকেটে নিই না, হাট ইজারাদারদের নির্দেশ পালন করছি মাত্র। তারা না নিতে বললে আমরা নেব না। সরকারি পরিপত্রের বিষয়ে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা পাইনি, পেলে অবশ্যই মানব।

ইসমত জাহান ছনি (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বদলগাছী)বলেন আমরা সরকারের পরিপত্রটি পেয়েছি এবং বাজার মনিটরিং শুরু করেছি, যা অব্যাহত থাকবে। ওজনে ৪০ কেজির বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যেই খাজনা আদায়ের নিয়ম। এরপরও কোনো ভুক্তভোগী কৃষক সুনির্দিষ্ট বা মৌখিক অভিযোগ করলে আমরা তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেব।

মো: সাইফুল ইসলাম (জেলা প্রশাসক, নওগাঁ) জানানপরিপত্র জারির পর থেকেই আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কৃষকের কাছ থেকে আমরা সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) এই বিষয়ে আমাদের একটি জরুরি সভা রয়েছে, সেখানেও আলোচনার মাধ্যমে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নওগাঁ জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১০৪টি হাট রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিটি হাটেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা অন্যায়ভাবে কৃষকদের পকেট থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং এই জুলুম বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জেলার লাখো কৃষক।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর