1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আদমদীঘির কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কিবরিয়ার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আদমদীঘিতে নারীসহ ৪জন গ্রেফতার গণেশ মূর্তি উদ্ধার ৭ দফা দাবী আদায়ে জেলা সমাবেশ সফল করতে আদমদীঘি দলিল লেখকদের প্রস্তুতিমুলক সভা দুপচাঁচিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাত গ্রেপ্তার আত্রাইয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করণের শুভ উদ্বোধন লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দুপচাঁচিয়ায় প্রধান শিক্ষক নূর ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নয় বছর পর এসিডদগ্ধ গৃহবধূ আমেনার মৃত্যু, প্রধান আসামি গ্রেফতারের দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন বগুড়ার সোনাতলায় অটোরিকশাচালক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু

বগুড়ায় গঠিত হচ্ছে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চূড়ান্ত পর্যায়ে আইনের খসড়া

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৭২ বার পঠিত
৬৮

স্টাফ রিপোর্টার বগুড়া:

বগুড়া শহর ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে পরিকল্পিত, আধুনিক এবং টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত আইনে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এলাকা এবং সরকার নির্ধারিত আশপাশের অঞ্চলগুলোকে নতুন কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বগুড়াকে দেশের নতুন সিটি কর্পোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন পায় এবং ১৪ মে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বগুড়া দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, দুর্যোগ-সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন খাতের বিকাশ এবং নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পৃথক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আইন কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করবে। আইন কার্যকর হওয়ার পর ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হবে, যা নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত আইনে একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে সরকারের প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত চারজন সদস্য ছাড়াও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং একজন নির্বাহী পরিচালক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নির্বাহী পরিচালক সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা অথবা সরকারের মনোনীত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পূর্ণকালীন সদস্যদের নিয়োগও সরকার প্রদান করবে।

খসড়া অনুযায়ী, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগর পরিকল্পনা, উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতা পাবে। মহাপরিকল্পনা, কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন থেকে শুরু করে ভূমি জরিপ, গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এ ছাড়া ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ, ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রদান, নির্মাণ কার্যক্রম তদারকি, ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আবাসন খাতে অনিয়ম প্রতিরোধের ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে।

সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, জনসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সমন্বয় সাধন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করাও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা, জলাশয়, কৃষিজমি, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান এবং উদ্যান সংরক্ষণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে নগর এলাকায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, বনায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নাগরিকদের জন্য বিনোদন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণের কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।মহাপরিকল্পনায় নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ভূমি ব্যবহার করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নিচু জমি ভরাট, প্রাকৃতিক জলাধারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা কিংবা নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে প্রথমবারের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে দুই থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। অন্যদিকে অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আদলে বগুড়ায় পৃথক সংস্থা গঠিত হলে নগর সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং অপরিকল্পিত নগর বিস্তার নিয়ন্ত্রণেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে আইনের খসড়া সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর