অনলাইন সংরক্ষণ : ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর অপ্রাপ্তবয়সে বিয়ে। মাত্র ১১ বছর বয়সে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে সংসার শুরু করেন এক কিশোরী। দুই বছর পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান। তবে সন্তান জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত সাত মাসের সন্তানকে ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হন ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী।
মঙ্গলবার ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইডের বিচারক মো. সায়েম খান শুনানি শেষে শিশুটিকে তার মায়ের কাছেই রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে আড়াই মাস পর নিজের সন্তানকে ফিরে পান কিশোরী মা।
লিগ্যাল এইড সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই কিশোরীর পক্ষ থেকে আবেদন করে অভিযোগ করা হয়, শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আবেদনের পর অভিযুক্তদের ১৬ জুলাই লিগ্যাল এইডে হাজির হতে বলা হলেও তারা উপস্থিত হননি।
পরে বিচারক শিশুটিকে উদ্ধারে চকবাজার থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে সোমবার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। মঙ্গলবার শুনানিতে উভয় পক্ষ ও শিশুটিকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এ সময় বিচারক কিশোরীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, শিশুটি তারই সন্তান।
সন্তানকে ফিরে পেয়ে তিনি বলেন, অনেক খুশি। শুনানিতে বিচারক বলেন, সে প্রথম যেদিন এখানে আসে, আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে তার সন্তান আছে। সে নিজেও তো একটা বাচ্চা।
শিশুর বাবার বয়স জানতে চাইলে তিনি ২২ বছর বলে জানান। তিনি দাবি করেন, কিশোরীকে প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেই বিয়ে করেছিলেন এবং তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়নি।
অন্যদিকে কিশোরীর আইনজীবী জানান, শুটিং স্পট দেখানোর কথা বলে কিশোরীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করা হয় এবং স্বামীর অধিকার দেখিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সন্তানের জন্মের পর মে মাসে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
শিশুর বাবার পক্ষের আইনজীবী বলেন, কিশোরী নিজেই সন্তানকে রেখে চলে গিয়েছিলেন। এ কারণেই শিশুটির অভিভাবকত্ব চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করা হয়েছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক বলেন, যেহেতু বাচ্চাটিকে নিয়ে আসা হয়েছে, মায়ের কাছেই থাকুক। মানবিক দিক তো দেখতে হবে। এরপর আদালত শিশুটিকে আপাতত মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন এবং আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
শুনানি শেষে কিশোরী বিচারকের কাছে জানতে চান, সন্তান তার কাছেই থাকবে কি না। জবাবে বিচারক বলেন, হ্যাঁ, তোমার কাছেই থাকবে। এদিকে কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ে তখনও পড়াশোনা করছিল। তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি শুরু থেকেই এ বিয়েতে সম্মতি দেননি। কিশোরীর বাবাও জানান, মেয়ের পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করা হয় এবং এ ঘটনায় তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকিও পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে শিশুর বাবা দাবি করেন, ফেসবুকে পরিচয়ের পর কিশোরী নিজেই তাকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। পরে তারা বিয়ে করেন এবং পরিবারের সদস্যরাও কিশোরীকে মেনে নেন। তবে পারিবারিক কলহের জেরে একসময় কিশোরী সন্তান রেখে চলে যান বলে তার দাবি।