অনলাইন সংরক্ষণ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো আবারও খোলা হয়েছে।গত শনিবার ২৭ জুন) সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই টাকা গণনার কাজ এখনো চলছে। তবে সব রেকর্ড ভেঙে মাত্র বিকেল ৩টার মধ্যেই গণনাকৃত টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ কোটি টাকায়।সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, গণনা শেষে এবার মোট প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে ৩ মাস ২৭ দিনে রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবার পুরো গণনা শেষ হওয়ার আগেই সেই রেকর্ড পার হয়ে গেছে।
শনিবার সকালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের লোহার সিন্দুক ও দানবাক্সগুলো খোলা হয়।এরপর টাকাগুলো প্রথমে বস্তায় ভরা হয় এবং পরে মেঝেতে ঢেলে গণনা শুরু হয়।বিপুল পরিমাণ এই টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন ৩৫০ জন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।১৩০ জন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী।৫০০ জন মসজিদ কমিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সদস্য।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মসজিদ কমিটির সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান জানান, দুপুর ১২টার মধ্যেই ১০ কোটি টাকা গণনা করে রূপালী ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।বিকেল ৩টা পর্যন্ত সাড়ে ১২ কোটি টাকা গোনা শেষ হয়েছে।দিনের প্রথম ভাগে বড় নোটগুলো গণনা শেষ হওয়ায় এখন ছোট নোট গণনার কাজ চলছে, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
ব্যাংকে জমার পরিমাণ ১১৪ কোটি টাকা ছাড়াল
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের যাবতীয় খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে নিরাপদে রাখা হয়।
এ পর্যন্ত ব্যাংকে প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা নগদ জমা রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে আসা দানের আরও ২৫ লাখের বেশি টাকা জমা আছে। আজকের টাকা গণনা শেষে এই বিশাল অঙ্কের অর্থও আগের জমার সঙ্গে যুক্ত হবে।সোহানা নাসরিন, জেলা প্রশাসক,কিশোরগঞ্জ।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, এই মসজিদের তহবিলের লভ্যাংশ কেবল মসজিদের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা মানবকল্যাণে ব্যয় হয়।সামাজিক অনুদান জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়নে নিয়মিত অনুদান দেওয়া হয়।
অসহায়, দরিদ্র এবং জটিল রোগে আক্রান্ত সাধারণ মানুষকে এই তহবিল থেকে চিকিৎসাসেবা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।দিন দিন মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ায় মসজিদের কলেবর বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগের সাড়ে ৫ একর জায়গার পাশাপাশি নতুন করে আরও ৫৩.৭ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে।মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, প্রতি ৪ থেকে ৬ মাস পর পর নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদের সিন্দুকগুলো খোলা হয়।
এখানে কেবল দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসলিমরাই নন,বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ মানত ও দান করতে আসেন। দানবাক্সে নগদ টাকা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা-রুপার গয়না এবং হীরা পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিদিন মানুষ এখানে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন সামগ্রীও দান করে থাকেন।আজকের পুরো গণনা শেষ হলে রাতেই মোট টাকার চূড়ান্ত হিসাব জানা যাবে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।