বিডি নিউজ বাংলা ডেস্কঃ লোকমুখে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা আছে যে বাদুড় মুখ দিয়ে মল ত্যাগ করে। তবে প্রাণিবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী এই ধারণাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভুল। অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো বাদুড়েরও একটি পূর্ণাঙ্গ পাচনতন্ত্র রয়েছে এবং তারা নির্দিষ্ট মলদ্বারের মাধ্যমেই মল ত্যাগ করে।
বাদুড় দিনের বেশিরভাগ সময় গাছের ডাল বা গুহার ছাদে পা ওপরের দিকে এবং মাথা নিচের দিকে দিয়ে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে।এই অস্বাভাবিক শারীরিক ভঙ্গিমার কারণে সাধারণ মানুষের মনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয় যে, উল্টো অবস্থায় থাকলে মল ত্যাগ করলে তা তাদের শরীরে লেগে যেতে পারে।
এছাড়া ফলখেকো বাদুড় ফলের রস চুষে নেওয়ার পর অকেজো শক্ত অংশ বা ছিবড়ে ও বীজ মুখ দিয়ে বাইরে উগরে ফেলে। অনেকে না বুঝে এই উগরে দেওয়া অংশকে মল হিসেবে ভুল করে থাকেন।বাদুড় কীভাবে মল ত্যাগ করে পাচনতন্ত্রের দিক থেকে বাদুড় মানুষের মতোই স্তন্যপায়ী শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের শরীর থেকে বর্জ্য নিষ্কাশনের প্রক্রিয়াটি মল বা মূত্র ত্যাগের সময় বাদুড় তাদের ঝুলন্ত অবস্থান সাময়িকভাবে পরিবর্তন করে।
তারা হাতের বা ডানার বুড়ো আঙুলের নখ দিয়ে আশ্রয়স্থল আঁকড়ে ধরে মাথা ও পেটের অংশ ওপরের দিকে তুলে ধরে এবং মলদ্বার নিচের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।এই ভঙ্গিমায় মলদ্বারের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে মল ও মূত্র নিষ্কাশন করে,ফলে মল তাদের নিজেদের শরীরে লাগে না।
গুয়ানোতে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম থাকে, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর।ফলখেকো বাদুড় মল ত্যাগের সময় বিভিন্ন ফল ও উদ্ভিদের বীজ অনেক দূরে ছড়িয়ে দেয়, যা নতুন গাছপালা জন্মাতে ও বনাঞ্চল রক্ষায় প্রাকৃতিক ভূমিকা পালন করে।