অনলাইন সংরক্ষণ : বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হওয়ার আগেই বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন তিনি। বঙ্গভবনে পদার্পণের পূর্বে সংসদীয় দলের সভায় তাঁর আবেগঘন বিদায় এবং সোশাল মিডিয়ার বার্তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর আলোচনার সৃষ্টি করেছে।পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে তিনি কি সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন,নাকি এটিই তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের যবনিকাপাত?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে আয়োজিত দলের বৈঠকে একাধিকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল।দলের জন্য দীর্ঘ লড়াই,কারাবরণ এবং কঠিন বৈরী পরিবেশে দলকে ধরে রাখার স্মৃতিচারণ করে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চান তিনি। ফেসবুকে লেখেন আজকে শেষবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ বলে বিদায় নিচ্ছি।ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি থেকে শুরু করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য,প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে তাঁর অবদান দেশের ইতিহাসে অনন্য নজির হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতিদের অতীত ইতিহাস ও রাজনীতিতে ফেরা বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গভবন থেকে সংসদ বা রাজপথে ফেরার দৃষ্টান্ত কম হলেও একদম বিরল নয়।সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেই দল গঠন করেন। আবার সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৯০ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও সক্রিয় রাজনীতিতে বহাল ছিলেন এবং আমৃত্যু জাতীয় পার্টির প্রধান ও সংসদ সদস্য পদে থেকেছেন।একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি পদ ত্যাগ করে ২০০৪ সালে বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে সক্রিয় রাজনীতির চেষ্টা চালান।
বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সরাসরি দলীয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবেই ক্যারিয়ারের ইতি টানেন। আইনগত বা সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদ মেয়াদ শেষে রাজনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী বাধা তৈরি করে না।তবে মূল বিষয় দাঁড়াবে বাস্তবতা ও বয়সের ওপর বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৮ বছর।পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হলে বয়স দাঁড়াবে ৮৩ বছরএই বয়সে রাজপথের টানা রাজনীতিতে ফেরা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং।পাঁচ বছর পর বিএনপি ও দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বও কাঠামোর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে,রাষ্ট্রপতি ভবন রাজনীতিকদের জন্য স্বয়ংক্রিয় অবসর কেন্দ্র নয়,আবার সেখান থেকে রাজপথে ফেরার নজিরও সীমিত। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মেয়াদের শেষে রাজনীতির মূলধারায় ফিরবেন নাকি অভিভাবকতুল্য সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি হিসেবেই ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন,তার চূড়ান্ত উত্তর দেবে সময়।