আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে পুলিশ সুপারের বিশেষ দিক-নির্দেশনায় এক সফল অভিযানে ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ৯০ কেজি গাঁজাসহ দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। সোমবার ভোররাতে উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের তুলার বাঐল গ্রামে একটি মাটির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপতারকৃতরা হলেন হামেদুল ইসলাম (৩৫), পিতা: মোঃ এজামুল, গ্রাম: তুলার বাঐল, নিয়ামতপুর।একই গ্রামের মোঃ রশিদ (৪৪), পিতা: মৃত আজমুদ্দিন
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ জুন। পাড়ইল ইউনিয়নে একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনার সূত্র ধরে তদন্তে নামে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে তদন্তের ধারাবাহিকতায় ৭ জুন রাতে হামেদুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটকের পর হামেদুলের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ সুপারের পরামর্শে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। প্রযুক্তির সূত্র ধরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হামেদুল ট্রান্সফরমার চুরির বাইরেও নিজের বিশাল মাদক সাম্রাজ্যের কথা স্বীকার করেন।
হামেদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁর পুলিশ সুপারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিয়ামতপুর থানার একটি বিশেষ টিম সোমবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত তুলার বাঐল গ্রামে অভিযান চালায়। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে হামেদুলের দোতলা মাটির বাড়ি থেকে সুদৃশ্য প্যাকেটে মোড়ানো ৯০ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। অভিযানে জড়িত থাকার অপরাধে হামেদুল ও তার সহযোগী রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাইস মাইক্রোবাস বা ট্রাকে করে মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে আসত। দুর্গম ও নিরাপদ ভেবে হামেদুলের মাটির দোতলা বাড়িটিকে মূলত মাদকের ‘সেফ হাউস’ বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এখান থেকেই নওগাঁ ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বিভিন্ন স্পটে পাইকারি ও খুচরা গাঁজা সরবরাহ করা হতো। মাদক ব্যবসার লভ্যাংশ ছাড়াও প্রতি ৩০ কেজি গাঁজা এই গোডাউনে রাখার জন্য বাড়ির মালিক হামেদুল ৫ হাজার টাকা করে পেত। এই সিন্ডিকেটের সাথে আরও বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে।
মোঃ তারিকুল ইসলাম পুলিশ সুপার (নওগাঁ) জানান মাদকের বিরুদ্ধে নওগাঁ জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলছে। জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে আগামী দিনগুলোতে পুলিশের এই কঠোর অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এই চক্রের পেছনের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করছে।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়ামতপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।