আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁ, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় নারীদের ওপর ধারাবাহিক হামলাকারী আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোরশেদ ওরফে মোরশেদ আলমকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার শরীফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় এক প্রেস কনফারেন্সে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা উপজেলায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে নারীদের মাথায় ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যেত এই চক্র। বর্বর হামলা: এই ধারাবাহিক হামলায় ধামইরহাটের কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা নির্মমভাবে নিহত হন।আহত: হামলায় আরও কয়েকজন নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাগুলোর রহস্য উদঘাটনে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। কোনো ক্লু না থাকা এই মামলাগুলোতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সর্বোচ্চ ব্যবহার করে। প্রযুক্তির সহায়তায় গত বুধবার (১০ জুন) গাজীপুরের বাসন থানার শরীফপুর কোনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।স্বীকারোক্তি: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদ কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা হত্যাসহ নওগাঁর একাধিক হামলার কথা স্বীকার করেছে।
পরবর্তীতে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেন। তিন জেলায় অন্তত ১৮ জনের ওপর হামলা প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, একই ধরনের অপরাধ দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলাতেও সংঘটিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এসব ঘটনার পেছনেও মোরশেদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিন জেলা মিলিয়ে অন্তত ১৭ থেকে ১৮ জনের ওপর সে একইভাবে হামলা চালিয়েছে। নওগাঁ জেলায় দায়ের হওয়া চারটি মামলাসহ অন্যান্য জেলায় রুজু হওয়া মামলাগুলোতেও মোরশেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।