অনলাইন ডেস্কঃ
ভারত যেটিকে ‘পুশ ব্যাক’ বলছে, বাংলাদেশে সেটিই ‘পুশ ইন’ হিসেবে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
দিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত বিজিবি-বিএসএফের ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান মেলেনি।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে পুশ ইনএর প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে।এমনকি আজ, ১৪ জুন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
বাইরের দেশের সংসদীয় বিষয়ে মন্তব্য নয়
বাংলাদেশের সংসদে এই প্রস্তাব উত্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, এটি সম্পূর্ণ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।তিনি বলেনএকটি বাইরের দেশের সংসদে কোন বিষয় উত্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।
যদি এমন কিছু হয়ও, তার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সীমান্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নয়, আরও পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গেও রয়েছে। ফলে এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ হলো ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রয়োজন হলে তারাই মন্তব্য করবে।
আহমেদ হাসান ইমরানকে নিয়ে বিতর্ক ও তদন্তের দাবি সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য আহমেদ হাসান ইমরানকে নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন উনি (কাকলি ঘোষ দস্তিদার) চিঠি লিখেছেন কি না,তা আমার জানা নেই। তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চলত এ কথা আমরা বিরোধী দল হিসেবে বহুবার বলেছি।তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
যেহেতু বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গেছে, তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোই তা দেখবে। তারা যদি কোনো সহায়তা চায়, তবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে।সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে বিএসএফের হাতে ধারাবাহিকভাবে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। দেশের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সীমান্ত এলাকায় দ্রুত কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন।
প্রতিদিনই বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রায়১০০ কিলোমিটার এলাকার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেন নেক করিডরসহ বেশ কয়েকটি
স্পর্শকাতরসীমান্তএলাকায়কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই সীমান্ত প্রাচীর ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে।