স্টাফ রিপোর্টার:
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর নন্দিনী রায় (৭) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি ও মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রাম।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত নন্দিনী রায় ফলিমারী গ্রামের নলিনী কান্ত রায়ের মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা রাতে আদিতমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে অভিযোগ অনুযায়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তা গ্রহণ না করে তাদের নিজ উদ্যোগে খোঁজ চালানোর পরামর্শ দেন।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নতুন খোঁড়া মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিখোঁজের রাতে জিডি না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি জানার পর জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন।
এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা প্রধান সন্দেহভাজন বিধান চন্দ্রের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাড়ির কয়েকটি কক্ষ ও মালামাল পুড়ে যায়।
দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
দফায় দফায় সংঘর্ষে জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ব্যবহৃত অন্তত ১০টি যানবাহন ভাঙচুর করে।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বিধান চন্দ্র (২৩) ও রঞ্জিত কুমার রায় (৩০) নামে দুইজনকে আটক করে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। বর্তমানে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, শিশু হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।