1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আদমদীঘির কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কিবরিয়ার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আদমদীঘিতে নারীসহ ৪জন গ্রেফতার গণেশ মূর্তি উদ্ধার ৭ দফা দাবী আদায়ে জেলা সমাবেশ সফল করতে আদমদীঘি দলিল লেখকদের প্রস্তুতিমুলক সভা দুপচাঁচিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাত গ্রেপ্তার আত্রাইয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করণের শুভ উদ্বোধন লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দুপচাঁচিয়ায় প্রধান শিক্ষক নূর ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নয় বছর পর এসিডদগ্ধ গৃহবধূ আমেনার মৃত্যু, প্রধান আসামি গ্রেফতারের দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন বগুড়ার সোনাতলায় অটোরিকশাচালক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু

তিস্তা নদীশাসনে সরকারের গুরুত্ব, লালমনিরহাটে তিন মন্ত্রীর মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ৭১ বার পঠিত
৭৬

 

 

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: ‎বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদীর তীরবর্তী তীব্র ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী। ‎শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এলাকায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ সফর অনুষ্ঠিত হয়।

 


‎সফরে অংশ নেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এই হাই-প্রোফাইল সফরের পর স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নদীশাসন কার্যক্রমে নতুন গতি আসার জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

‎উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা, সেচ কার্যক্রম, পানি ব্যবস্থাপনা এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকর্তা ঘুরে দেখেন।

‎পরবর্তীতে ব্যারাজের অবসর হলরুমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা। সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

এ সময় তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সেচ ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বা বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

‎তিস্তা ব্যারাজ শুধু একটি সাধারণ পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নয়, এটি সমগ্র উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে এক অভূতপূর্ব চালিকাশক্তি।

 

একসময় খরা ও পানির সংকটে বিপর্যস্ত এই অঞ্চলে আজ তিস্তার সেচের পানি লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করেছে। এক ফসলি জমি বহু ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে এবং কৃষকদের জীবনমানেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

 

‎সফরের অংশ হিসেবে মন্ত্রীরা তিস্তা নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও নদীপাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে স্থায়ী নদীশাসনের জোর দাবি জানান।

 

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফরের মাধ্যমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

‎পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীবর্গের সাথে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল।

 

প্রশাসনিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম. শাহাবুদ্দিন,
‎বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. এনায়েত উল্লাহ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, নকশা ও গবেষণা) প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. সরফরাজ বান্দা, তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান সহ লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

‎মন্ত্রীদের এই গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল বলে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র নিশ্চিত করেছেন।

‎তিস্তা ব্যারাজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ও সফল সেচ প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের কৃষি বিপ্লব, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর অবদান অপরিসীম।

 

ফলে তিস্তা ব্যারাজ ও এর চারপাশের অববাহিকাকে শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‎পরে সেখান থেকে তিস্তা সড়ক ও রেল পরিদর্শন শেষে সেতুর নিচে এক সমাবেশে যোগদেন তিন মন্ত্রী।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর