1. admin@bdnewsbangla24.com : admin :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবী আদায়ে জেলা সমাবেশ সফল করতে আদমদীঘি দলিল লেখকদের প্রস্তুতিমুলক সভা দুপচাঁচিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাত গ্রেপ্তার আত্রাইয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করণের শুভ উদ্বোধন লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দুপচাঁচিয়ায় প্রধান শিক্ষক নূর ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নয় বছর পর এসিডদগ্ধ গৃহবধূ আমেনার মৃত্যু, প্রধান আসামি গ্রেফতারের দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন বগুড়ার সোনাতলায় অটোরিকশাচালক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার নিয়ামতপুরে ৫৫০ লিটার চোলাইমদসহ গ্রেপ্তার ৩

ধুনটে ১০৩ প্রতিষ্ঠানে নেই প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার আকাশ ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে, ১১৪ সহকারী পদ শূন্য

কারিমুল হাসান
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬৩ বার পঠিত
১৭৭

 

 

 

কারিমুল হাসান, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: প্রাথমিক শিক্ষা মানেই কোমলমতি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ঘেরা আকাশ। কালো মেঘের ঘনঘটা মানেই শিক্ষার আকাশে সংকট। শিশুদের জন্য যেমন প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই, তেমনি সংকট নিরসন ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠদানের মূল্যনেই বলেলই চলে। বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। উপজেলার ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৩টিতেই নেই স্থায়ী কোন প্রধান শিক্ষক, অর্থাৎ প্রায় ৫১ শতাংশ বিদ্যালয়ের দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের কাঁধে।

 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু কিছু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা দিয়েছে সহকারী শিক্ষকের সংকট। ধুনট উপজেলায় ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১৪টি সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বাড়ছে প্রশাসনিক চাপ, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।

 

ধুনট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন মিলিয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে ১০৩টি। যার মধ্যে মথুরাপুরে ১৬টি, গোপালনগরে ১৪টি, নিমগাছিতে ১৪টি, ভান্ডারবাড়িতে ১৩টি, কালেরপাড়ায় ১০টি, চৌকিবাড়ী, গোসাইবাড়ী, চিকাশী ও এলাঙ্গীতে ৮টি করে, সদর ইউনিয়নে ২টি এবং পৌরসভায় ১টি শূন্য পদ রয়েছে।

 

সরেজমিন জানা যায়, গোপালনগর ইউনিয়নের রান্ডিলা আতাউল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। ওই শূন্য পদে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম জানান, ১০২ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষকের পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ৪ জন। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে দূর থেকে কেউ এসে শিক্ষকতা করতে চান না বলেই স্কুলটি শিক্ষা সংকটে রয়েছে।

 

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৭৪ সালে জাতীয়করণ হওয়া পৌরসভার ভরণশাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রায় দুই বছর ধরে নেই প্রধান শিক্ষক। ৬২৬ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে ১৮ শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১ জন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০২৪ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অন্য শিক্ষকদের পাঠদানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। একজন প্রধান শিক্ষক পদস্থ হলে প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনার গতি আরও বাড়বে বলে মনে করি।

 

২০১৬ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া উলুরচাপড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পদটি এখনো পূরণ হয়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফেরদৌস মাহমুদ বলেন, ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকায় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। দীর্ঘ দশ বছর প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের সংকটে পড়তে হয়।

 

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী সুলতানা বলেন, শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়ায় প্রশাসনিক দায়িত্ব ও পাঠদান দুটোই সচল রাখা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ছে। চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের শ্যামবাড়ি বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, নিয়মিত ক্লাস হলেও প্রধান শিক্ষক না থাকায় ক্লাসের বাইরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ কমে গেছে।

 

এই সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেন না, বরং একাডেমিক কার্যক্রম তদারকি, নথিপত্র সংরক্ষণ ও অভিভাবক-শিক্ষা বিভাগের মধ্যে যোগাযোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই প্রয়োজনীয় মনোযোগ পাচ্ছে না। যার কারনে আলাদাভাবে পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এছাড়াও নিজের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে বিশিষ করে বিভিন্ন ‍কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুলে ভর্তির কথাও ভাবছেন অনেকে।

 

কেন এই পদগুলো এত বছর ধরে শূন্য থেকে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাবে ধুনট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সবুর বলেন, নিয়োগ, পদোন্নতি, মামলা ও প্রশাসনিক নানা জটিলতাই মূলত এর পেছনে দায়ী। প্রাথমিক পর্যায়ে এমনিতেই যে শিখন ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ আছে, শিক্ষক সংকট তার সঙ্গে যুক্ত হলে পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার সময় শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করছি।

 

ধুনট উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইয়্যেদা জাহান বানু বলেন, শূন্য পদের বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে উপজেলার ৬১টি বিদ্যালয়ে নতুন প্রধান শিক্ষক যোগদান করবেন বলে আশা করছি। নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রমে যেমন গতি ফিরবে, তেমনি সুন্দর ও মননশীল শিক্ষার পরিবেশ ফিরবে কমলমতি শিক্ষার্থীদের মানেও।

 

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, শিক্ষক শূন্য পদের বিষয়ে আমি অবগত আছি। শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুতই সৃষ্ট সংকট নিরসন হবে বলে আশা করছি। তবে ৬১টি পদ পূরণ হলেও বাকি থেকে যাচ্ছে আরও ৪২টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ। যেখানে কবে নাগাদ স্থায়ী প্রধান শিক্ষক হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

 

ততদিন শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটাই দাবি শ্রেণিকক্ষ আর দাপ্তরিক চেয়ারের মাঝে ভাগ হয়ে থাকা শিক্ষকদের এই বাড়তি বোঝা লাঘব করে দ্রুত সব শূন্য পদ পূরণ করা হোক, যাতে ধুনট উপজেলার শিশুরা তাদের প্রাপ্য শিক্ষাটুকু ঠিকভাবে পায়। তারায় তারায় ভরে উঠুক কমলমতি শিক্ষার্থীদের মনের আকাশ। এমনটাই প্রত্যাশা অভিভাবকসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনদের।

 

বিডি নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম 
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর